ভোট শেষ, সহিংসতায় নিহত ৪

2

imagesএলার্ট নিউজ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম: দ্বিতীয় ধাপে ৬৩৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় শেষ হয়েছে। এখন চলছে ভোট গণনা। নির্বাচনের এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে এক শিশুসহ চার জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। এ ছাড়া জালভোট, প্রার্থীদের ভোট বর্জনের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

২২ মার্চ প্রথম ধাপে ৭১২টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারই প্রথম দলীয় প্রতীক ও মনোনয়নে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট ৬ ধাপে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হবে। শেষ ধাপের নির্বাচন হবে আগামী ৪ জুন।
যশোর সদর উপজেলার চাঁচরা ইউনিয়নের ৬৫ নম্বর চাঁচড়া ভাতুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হামলা ও সংঘর্ষে আবদুস সাত্তার নামের এক ফেরিওয়ালা নিহত হয়েছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদপ্রার্থী দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষে আবদুস সাত্তার নিহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালিয়েছে।
সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নে আ.লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। ভোট গ্রহণের শেষ পর্যায়ে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। তবে নিহত কারও পরিচয় জানা যায়নি।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ারুল করিমের অভিযোগ, বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল আজিজ বিশ্বাসের সমর্থকেরা কেন্দ্র ও এর আশপাশ এলাকায় হামলা চালান।
এ ছাড়া ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রে ইউপি নির্বাচনে ভোট চলাকালে গুলিতে এক শিশু নিহত হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে মধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুটির নাম শুভ কাজী (৯)। সে মধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার বাবা হালিম কাজী। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। বাড়ি ইউনিয়নের ঢালিকান্দি গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, রানা মোল্লা নামের এক ব্যক্তি ২৫-৩০ জন লোক নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তাঁরা ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারার চেষ্টা চালান। এ সময় আতঙ্কে ওই কেন্দ্রের লোকজন ছোটাছুটি করতে থাকেন। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। এতে গুলিতে বিদ্ধ হয়ে শুভ মারা যায়।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, মা সুবর্ণা বেগমের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিল শুভ।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, রানা আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আনোয়ার হোসেন আয়নালের লোক হিসেবে পরিচিত। নিহত শুভর বাবা হালিম বলেন, ‘ভোটের কারণে আমার ছেলেটা মারা গেল।’
এই ইউনিয়নে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নুরুল হক রিপন। ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে পুলিশের গুলিতে ছয়জন আহত হন। উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন। লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজনের ওপর প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা করে। এতে আহত হয় অন্তত ১০ জন। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াখোলা ইউনিয়নের বড়কয়রা কমিউনিটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ গুলি করে। এতে ওই কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। সকালে কারচুপির অভিযোগে সীতাকুণ্ডে বিএনপির ছয় প্রার্থী ভোট বাতিলের দাবি জানান রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে।