ভয়ঙ্কর চক্র দেশে ইউরেনিয়াম পাচারের

23

দেশে পারমাণবিক বোমা বানানোর অপরিহার্য উপাদান ইউরেনিয়াম পাচারের বড় একটি চক্র গড়ে উঠেছে । বহন ও ব্যবসা-বাণিজ্য সর্বসাধারণের জন্য নিষিদ্ধ এ বস্তুটির ৬টি চক্র সক্রিয় রয়েছে বাংলাদেশে। যারা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইউরেনিয়াম ক্রয় করে এক দেশ থেকে আরেক দেশে পাচার করে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকার কারণে কিছুদিন এ অবৈধ ব্যবসা থেকে বিরত থাকলেও আবার তারা সক্রিয় হয়েছে। অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা হওয়ার কারণে দিন দিন চক্রের সংখ্যা বাড়ছে। পারমাণবিক বোমা ছাড়াও বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসা শাস্ত্রে এর ব্যবহার থাকার কারণে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে এ চক্রের বিষয়ে সতর্ক রয়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কারণ কোনোভাবে চক্রের সদস্যদের কাছ থেকে ইউরেনিয়াম বস্তু উগ্রবাদী এবং জঙ্গিগোষ্ঠীর কাছে চলে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হবে।

গত ২৮শে ডিসেম্বর রামপুরা এলাকা থেকে ৫৫ কোটি টাকা মূল্যের ২ পাউন্ড ইউরেনিময়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এ তিনজনের মধ্যে এবিএম সিদ্দিকী স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রকৌশলী। ইউরেনিয়াম পাচারকারী গোষ্ঠীর সঙ্গে তার কি ধরনের লিয়াজোঁ আছে তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাকি দু’জন বেকার বলে রামপুরা থানা পুলিশের কাছে দাবি করেছেন। দু’জনেরই প্রতারক চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এর আগেও ২০১৪ সালের ২৪ই আগস্ট ইউরেনিয়ামসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ চক্রকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য মাঠে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ বিষয়ে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ গতকাল মানবজমিনকে জানান, ‘উদ্ধার হওয়া ইউরেনিয়ামগুলো রাশিয়ার। এটির চক্র রয়েছে। আমরা তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে যা পাওয়া গেছে তা তদন্ত করে দেখছি।’

র‌্যাব সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রামপুরা এলাকা থেকে যাদের কাছ থেকে ইউরেনিয়াম উদ্ধার হয়েছে ওই সকল ইউরেনিয়ামের গায়ে টজঅঘওটগ অঞঙগওঈ ঊঘঊজএণ গঊঞঅখওঈ ঊখঊগঊঘঞ অঞঙগওঈ ডঊওএঐঞ ২২২.০৭ (অ) ২খ.ই খঅইচজঙঝ লেখা ছিল। তাদের কাছ থেকে ১টি রিমোর্ট, ১টি ম্যানুয়েল বইসহ আরো কিছু সামগ্রী উদ্ধার করেছে র‌্যাব। তারা র‌্যাবের কাছে দাবি করেছে যে, ওই ইউরেনিয়ামগুলো প্রথম ব্যক্তির কাছ থেকে তারা পেয়েছেন। ওই প্রথম ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে র‌্যাব এবং পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ইউরেনিয়াম একটি লাভজনক ব্যবসা। সাম্প্রতিককালে বিদ্যুৎ ব্যবহারে তা কাজে লাগানো হচ্ছে। দেশে চাহিদা কম থাকলেও বিদেশে এর চাহিদা প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। ১৫শ’ টন কয়লা থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব তার সমান বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মাত্র ১ কেজি ইউরেনিয়ামই যথেষ্ট।
সূত্র জানায়, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ওই সাবেক প্রকৌশলী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছে যে, তিনি সৎভাবে বাঁচার জন্য সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ওই ইউরেনিয়ামগুলো তার নয় বলেও র‌্যাবের কাছে দাবি করেছেন।

সূত্র জানায়, সারা দেশে ইউরেনিয়াম পাচারের বড় একটি চক্র গড়ে উঠেছে। দেশে বর্তমানে ৬টি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা হলো- ফেনীর দাগনভূঁইয়ার আজিজুল ইসলাম, ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা এলাকার মাসুমুর রহমান, যশোরের ঝিকরগাছার হিসাম উদ্দিন সুমন, বরিশালের মুলাদি এলাকার আবিদুল ইসলাম ও নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার শহিদুল ইসলাম। এর মধ্যে আবিদুল ও মাসুমুর রহমান দু’জন প্রবাসে রয়েছেন। তাদের ব্যাপারে ইমিগ্রেশন পুলিশ সতর্ক রয়েছে। প্রত্যেক চক্রের সঙ্গে ৫ থেকে ৬ জন করে মাঠ পর্যায়ে পাচারের কাজ করে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া দু’জন থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন যে, তারা আগে কাপড়ের ব্যবসা করতেন। দ্রুত ধনি হওয়ার জন্য ইউরেনিয়াম পাচারে সক্রিয় হয়েছেন। এ কাজে আসার জন্য তাদের এক বড় ভাই প্রেরণা দিয়েছে। তারা শুধু মাঠ পর্যায়ে একস্থান থেকে আরেক স্থানে ইউরেনিয়াম পৌঁছে দিতেন। এর বিনিময়ে তারা মোটা অঙ্কের টাকা পেতেন। তাদের কাছ থেকে এ চক্রের আরো একাধিক সদস্যের নাম জানতে পেরেছে পুলিশ। তারা পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর অন্যরা পলাতক রয়েছে। তাদের ধরার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।