Home / খবর / ভয় পাওয়ার কিছু নেই অবধারিত মৃত্যুকে: প্রধানমন্ত্রী

ভয় পাওয়ার কিছু নেই অবধারিত মৃত্যুকে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মৃত্যু সবার জন্য অবধারিত, এজন্য মৃত্যু নিয়ে ভীত নন বলে জানিয়েছেন । বলেছেন, ‘যখন জন্মেছি মরতে তো একদিন হবেই। করোনাভাইরাসে মরি, গুলি খেয়ে মরি, বোমা খেয়ে মরি বা অসুস্থ হয়ে মরি। এই যে কথা বলছি বলতে বলতেও মরে যেতে পারি। কাজেই মৃত্যু যখন অবধারিত মৃত্যুকে ভয় পাওয়ারতো কিছু নেই। আমি ভয় পাইনি ভয় পাবোও না।’

বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা করোনাভাইরাস সংক্রমণকালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে সশরীরে সংসদে না এসে ভার্চুয়াল ব্যবস্থাপনায় সংসদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার অনুরোধ করেন।

রাঙ্গার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি যখন দেশে ফিসে আসি সেই বাংলাদেশ যেখানে আমার বাবাকে হত্যা করেছে, আমার মা, আমার ভাই, শিশুভাইটাও রেহাই পায়নি। সেই অবস্থায় আমি ফিরে এসেছি। আল্লাহ জীবন দিয়েছেন আল্লাহ নিয়ে যাবেন। আল্লাহ প্রত্যেকে কিছু কাজ দেয়, সেই কাজ করতে হবে। যতদিন সেই আল্লাহ আমার ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছে সেটুকু যতক্ষণ শেষ না হবে ততক্ষণ আমি কাজ করে যাবো। যখন সময় আসবে আমার কাজ শেষ হলে আমি চলে যাবো।’

‘মানুষের কষ্ট লাঘবে যা যা করার সবই করব’

করোনাভাইরাস মোকাবেলার পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য যা যা করণীয় তা করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, আমরা একদিকে যেমন করোনা মোকাবেলা করব। পাশাপাশি দেশে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন যাতে চলে। মানুষ যেন কষ্ট না পায়। তার জন্য যা যা করণীয় আমি করে যাব।

করোনা ভাইরাসের কারণে মানুষের মধ্যে একটি আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে সবকিছু একটা অচলাবস্থা চলছে। পাশাপাশি মৃত্যু এসে হানা দিচ্ছে। অবশ্য এখানে সুস্থতার সংখ্যা অনেক বেশি। তারপরেও মানুষের ভেতর কেমন একটা আতঙ্ক বিরাজমান।

করোনা ভাইরাসের কাছে বিশ্বের শক্তিধর দেশে অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের বিশ্বের যে যতই শক্তিধর হোক, যতই অর্থশালী হোক, অস্ত্রের শক্তিশালী হোক- কোনো শক্তি কাজে লাগছে না। মনে হচ্ছে করোনাভাইরাসটাই সবচেয়ে শক্তিশালী। আর প্রকৃতি যেন তার প্রতিশোধ নিচ্ছে। এমন একটা বিষয় আমার কাছে মনে হয়।

করোনানভাইরাসের কারণে সমাজের অনেকেই মৃত্যুবরণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে আমাদের প্রশাসন যেভাবে ওটা বন্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, চিকিৎসক, নার্স স্বাস্থ্যকর্মী, রাজনৈতিক কর্মী, আনসার ভিডিপি বিজিবি, সাংবাদিক প্রত্যেকে প্রতিনিয়ত জনগণের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সকলে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে অনেকেই মৃত্যুবরণ করেছে। মারা গেছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাস এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করে ফেলেছে। মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে একটা দূরত্ব নিয়ে এসেছে। তবে এটা ঠিক সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেয়াতে পরিবারের সঙ্গে থাকার একটা সুযোগ করে দিয়েছে। জানি না সব জিনিসের ভালো-মন্দ দিক থাকে।

করোনাভাইরাসের কারণে অনেকে কর্মহীন হয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, যারা ছোটখাটো কাজ করতো, দিন আনে দিন খায় তারা প্রত্যেকে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। এসব প্রত্যেক মানুষের খবর নিয়ে তাদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছানো, এজন্য নগদ টাকার ব্যবস্থা করা। এতিমখানা মসজিদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানুষ, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক তাদেরকে আমার ত্রাণ তহবিল, যাকাতের টাকাসহ নানাভাবে সহায়তা করেছি। আমরা মানুষকে খুঁজে খুঁজে বের করে সাহায্যটা দিয়েছি। সমাজের অগোচরে থেকে যাওয়া বিশাল জনগোষ্ঠীর কষ্ট দুঃখ টা যাতে একটু লাঘব করা যায় সেই চেষ্টা টুকু করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা জানান, প্রত্যেক জেলায় জেলা প্রশাসকের কাছে আলাদাভাবে ফান্ড দেয়া হয়েছে। একটা মানুষের জন্য না খেয়ে কষ্ট না যায়। প্রত্যেক যেন সহযোগিতা করা হয়।

এ ধরনের অমানবিক আচরণ দুঃখজনক’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ কালে আওয়ামী লীগ জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দলের নেতাকর্মীর যে যতটুকু পেয়েছে পর থেকে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিত্তশালীরা সাহায্য করেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে সাহায্য করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো করোনাভাইরাসে মারা গেলে আত্মীয়-স্বজন আপনজন ফেলে চলে যায়। সেই লাশ টানে পুলিশ বাহিনী। তারা নিয়ে কবর দিচ্ছে। জানাজা পড়ছে। সেখানে ভয় কোনো আপনজন থাকছে না। মানুষের মৃত্যুর পর এ ধরনের অমানবিক আচরণ করবে এটা খুবই দুঃখজনক।

বোরো মৌসুমে কৃষকদের ধান কাটতে ছাত্রলীগ সহযোগিতা করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ছাত্রলীগ-যুবলীগ মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ দাফন ও আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে আপনজনের লাশ ফেলে যায় সেখানে ছাত্রলীগ-যুবলীগ মানবিকতা দেখিয়েছে এতেই আমি আশাবাদী।

‌ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একদিকে করোনাভাইরাস অপরদিকে এল ঘূর্ণিঝড় আম্পান। ঘূর্ণিঝড়ের সময় আমরা ২৪ লাখ মানুষকে শেল্টারে নিয়ে আসি। কয়লা গৃহপালিত পশুপাখি আমরা শেল্টারের নেয়ার ব্যবস্থা করি। প্রত্যেকে খাদ্যের ব্যবস্থা করে দিই। এসবই করা হয় করোনাভাইরাসের নিয়ম মেনে। আম্পানে হয়তো অনেক ক্ষতি হয়েছে। তবে আমরা জান বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি।

তাদেরকে হারিয়ে আজ সত্যিই কষ্ট হয়’

নিজের শিক্ষক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সকল বুদ্ধিজীবী বেঁচে ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। আমি প্রধানমন্ত্রী হই আর যাই হই শিক্ষক শিক্ষকই। তাকে আমি সবসময় শিক্ষকের মর্যাদাই দিয়ে এসেছি। তিনি অসুস্থ হওয়ার পর আমি চেষ্টা করেছি, সবসময় খোঁজখবর নিয়েছি। চিকিৎসার সব রকম ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু.. বয়স পার হয়ে গিয়েছিল। পরিচিত মানুষ আজ হারিয়ে গেছে সত্যি কষ্ট হয় আজ কাকে রেখে কার কথা বলব।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনার একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা প্রতিবাদ করেছিলেন তাদের অনেককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেই সময় ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান পটলকেও নাম্বার হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জিয়াউর রহমান জড়িত ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: