মা অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ঘুরছেন

33

করোনা আক্রান্ত সন্দেহে মাকে সঙ্গে করে এসেছেন রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর)। পরীক্ষার জন্য। কিন্তু তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় মহাখালীতে আইইডিসিআরের সামনে বসে থাকলেও কেউ ছুঁয়েও দেখেনি। পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগও নেয়নি কেউ। জ্বর, গলাব্যথা ও শুকনো কাশিতে ভুগছেন মেয়েটি। বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নে।

কলেজ পড়ুয়া ও শিক্ষার্থীর মা জানান, পরে তিনি মেয়েকে নিয়ে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে এসেছেন।

মেয়েটির মা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পাঁচদিন ধরে জ্ব, গলা ব্যথা ও শুকনা কাশিতে ভুগছে আমার মেয়েটা। শুনেছি মহাখালীতে করোনার পরীক্ষা হয়। তাই মেয়েকে নিয়ে আজ সকালে সেখানে গিয়েছিলাম। কেউ সেখানে কেউ ধরেও দেখেনি। অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে কি রাস্তায় বসে থাকা যায়? পরে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে আসছি।’

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মেয়েকে চিকিৎসক দেখাতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোর মুঠোফোন নম্বরে কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। জেলাটিকে বেশ কয়েকদিন আগেই লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সর্বশেষ খবর বলছে, গত ৮ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ২১৪ জন (তারমধ্যে নারায়ণগঞ্জের সাবেক সিভিল সার্জনসহ ডাক্তার ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীসহ প্রায় ২৭ জন)। করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৩ জন। প্রতিদিনই নারায়ণগঞ্জে ২০ থেকে ২৫ জন করে করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। করোনার উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে কোয়ারান্টিনে আছেন অনেকে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ নারায়ণগঞ্জ জেলার মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নারায়ণগঞ্জে করোনা শনাক্তের জন্য পিসিআর ল্যাব স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।