ব্রেকিং নিউজ
Home / খবর / মিটফোর্ডের ৪২ চিকিৎসক-নার্স যেভাবে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন

মিটফোর্ডের ৪২ চিকিৎসক-নার্স যেভাবে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন

রোগীদের মধ্য একজন হার্নিয়ার সমস্যা এবং আরেকজনের খাদ্যনালীতে প্যাঁচ লেগে যাওয়ার সমস্যা ছিল।  রোগীদের মধ্য একজন হার্নিয়ার সমস্যা এবং আরেকজনের খাদ্যনালীতে প্যাঁচ লেগে যাওয়ার সমস্যা ছিল।  করোনা আক্রান্ত দুই রোগী নারায়ণগঞ্জ থেকে এসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) সার্জারি বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন। রোগী ভর্তির সময় স্বজনরা রোগী করোনা আক্রান্ত ও তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে আসার তথ্য গোপন রাখেন। একজন রোগীর স্বজন মাদারিপুর থেকে এসেছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তথ্য দেন। এদিকে রোগীদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়াতে চিকিৎসকরা তাদের শরীরে তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্রোপচার করেন। পরে তাদের অস্ত্রোপচারে যুক্ত থাকা চিকিৎসক নার্সরা ওইদিনই আরও কিছু রোগীর অস্ত্রোপচার করেন। রাতে তাদের নিজ নিজ বাসায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেলামেশা করেন। পরের দিন ওই চিকিৎসক ও নার্সরা হাসপাতালের অন্যান্য রোগী এবং সহকর্মীদের সংস্পর্শে আসেন। এর মধ্য চিকিৎসকরা জানতে পারেন সার্জারির ওই রোগীরা নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন।

উপসর্গ দেখে রোগীদের করোনা সন্দেহ করেন চিকিৎসকরা। পরে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠালে পরেরদিন পরীক্ষায় পজিটিভ রেজাল্ট আসে। এরপর ওই দুই রোগীকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়। চিকিৎসক নার্সরা চলে যান কোয়ারেন্টিনে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ওই রোগীদের করোনা পজিটিভ রেজাল্ট আসার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের জরুরি অপারেশন থিয়েটার ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড লকডাউন করে দেয়া হয়। ওইদিন সার্জারির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সার্জারি বিভাগের ২ জন চিকিৎসা, ১ জন গাইনী চিকিৎসক, ২ জন অ্যানেস্থেশিয়লজিস্ট, ৪ জন নার্স ও ৩ জন ওয়ার্ড বয়। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করলে রেজাল্ট পজিটিভ আসে। সূত্রমতে ১১ই এপ্রিল ওই রোগীরা ভর্তি হওয়ার পর ১২ই এপ্রিল তাদের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। পরে ১৬ই এপ্রিল চিকিৎসক, নার্স, অ্যানোস্থেশিয়লজিস্ট ও ওয়ার্ড বয় মিলে হাসপাতালের মোট ১২ জন আক্রান্ত হন। ১৭ই এপ্রিল আরও ১০ জন করোনা আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে সার্জারি ও গাইনি বিভাগের ১০ জন চিকিৎসক এবং আটজন নার্স আছেন৷ গত শনিবার আরো ৬৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করালে তাদের সবার ফল নেগেটিভ আসে৷ তবে গতকাল রোরবারের পরীক্ষায় আরো ১৩ জন চিকিৎসক এবং সাতজন নার্সের করোনা শনাক্ত হয়েছে৷ সব মিলিয়ে মোট ৪২ জন  করোনা আক্রান্ত। এরমধ্য ২৩ জনই চিকিৎসক ৷ বাকিদের মধ্যে নার্স ছাড়াও একজন আনসার সদস্য আছেন৷ আক্রান্তদের মধ্যে অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনেককে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। ওই চিকিৎসক ও নার্সরা যাদের সংস্পর্শে এসেছেন তাদেরকেও কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। লকডাউন করা হয়েছে আক্রান্ত চিকিৎসকদের কক্ষ, নার্সিং স্টেশন। আক্রান্ত ওই ৪২ জন ছাড়া শতাধিক ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।  এর বাইরে অন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে হবে কিনা জানতে চেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিটফোর্ডের এক চিকিৎসক বলেন, ওই রোগীরা যে করোনা আক্রান্ত বা ক্লাস্টার এলাকা নারায়ণগঞ্জ থেকে তারা এসেছে সেটি জানলে চিকিৎসক নার্সরা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিয়ে তাদের সংস্পর্শে যেত। একটি তথ্য গোপন করায় এখন কত মানুষ আক্রান্ত হবে তার ঠিক নাই। কারণ না জেনেই ওই চিকিৎসক নার্সরা অন্যান্য চিকিৎসক, নার্স, রোগী, পরিবার পরিজনসহ আরো অনেকের সংস্পর্শে গেছেন। এখন এই সংক্রমণটা শুধু ছড়াতে থাকবে। হাসপাতালের সকল স্টাফ, চিকিৎসক, নার্সদের মধ্য এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মিটফোর্ড হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মো. রশিদ উন নবী বলেন, এখন পর্যন্ত ৪২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তার মধ্য ২৩ জন চিকিৎসক। বাকিরা নার্স ও আনসার সদস্য। এদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাকিদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন রোগী তথ্য গোপন করায় এই সমস্যা হয়েছে। জরুরি রোগী অপারেশন ছাড়া উপায় ছিল না। তাই অন্যান্য সাধারণ রোগীদের মতই তাদেরকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতাল লকডাউন করার কোনো চিন্তা আমাদের  নেই। আমরা মানুষকে সেবা দিতে এসেছি। প্রয়োজনে আরো ডাক্তার নিয়ে আসবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: