Home / আর্ন্তজাতিক / মিশেল বললেন- এটা কোনো গেম নয় , আবারও বিজয় দাবি ট্রাম্পের

মিশেল বললেন- এটা কোনো গেম নয় , আবারও বিজয় দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এখনও পরাজয় স্বীকার করেননি। সোমবার সকালেও তিনি টুইটে লিখেছেন- ‘আই ওন দ্য ইলেকশন!’। অর্থাৎ নির্বাচনে আমি জিতেছি। স্বাভাবিক কারণেই তিনি পরাজয় স্বীকার করে না নেয়ায় আগামী ২০ শে জানুয়ারি নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান নিয়ে এক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। অন্তর্বর্তী এ সময়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত জো বাইডেনের কাছে সব স্পর্শকাতর তথ্য চলে আসার কথা। তাকে ব্রিফিং করার কথা। অন্তর্বর্তী প্রশাসন চালাতে সরকারি অর্থ সহায়তা পাওয়ার কথা তার। কিন্তু অব্যাহতভাবে তাতে বাধা সৃষ্টি করে যাচ্ছেন ট্রাম্প।

এ অবস্থা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে বহু মানুষ করোনা ভাইরাসে মারা যেতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন বাইডেন। অন্যদিকে ট্রাম্পের এমন আচরণের বিষয়ে সাবেক ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা বলেছেন, এটা কোনো গেম খেলা নয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, সোমবার নিজের রাজ্য দেলাওয়ারে বক্তব্য রেখেছেন বাইডেন। তিনি বলেছেন, সহযোগিতার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস মহামারি মোকাবিলা করা প্রয়োজন। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট উভয় শিবির থেকে পরাজয় মেনে নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে ট্রাম্পকে। কিন্তু তিনি তাতেও অবস্থানের পরিবর্তন ঘটাননি। তার এই মনোভাবকে ‘পুরোপুরি দায়িত্বহীনের’ কাজ বলে মন্তব্য করেছেন বাইডেন।

গত ৩রা নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেন পেয়েছেন ৩০৬ ইলেকটোরাল কলেজ ভোট। একজন প্রার্থীকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে তাকে কমপক্ষে ২৭০টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট পেতে হয়। বাইডেন এই টার্গেট পূরণ করে এগিয়ে গেছেন অনেক দূরে। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প এখনও নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ এনে নিজেকে বিজয়ী বলে দাবি করছেন। ফলে তার নির্বাচনী প্রচারণা টিম বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনের ফল নিয়ে মামলা করেছে। ওদিকে নির্বাচনের পর পরই নতুন প্রেসিডেন্টের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে অন্তর্বর্তী কাজগুলো করে সরকারি প্রতিষ্ঠান জেনারেল সার্ভিসেস এডমিনিস্ট্রেশন (জিএসএ)। তারা পর্যন্ত এখনও বাইডেন ও নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসকে বিজয়ী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তাদের কাছে সরকারি স্পর্শকাতর বিষয়ে এখনও ব্রিফিং করেনি জিএসএ। ট্রাম্প প্রশাসনের এই বিপরীত মানসিকতায় বোঝা যায়, করোনা ভাইরাসের টিকা বিতরণের কৌশল থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বাইরে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা নিয়ে সোমবার বক্তব্য রেখেছেন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি প্রশ্ন রেখেছেন- এর অর্থ কি কেউ বুঝতে পারেন? বাস্তবতা হলো জীবন বাঁচানো। এটা কোনো অতিশয়োক্তি নয়। যদি আমরা একে অন্যকে সহযোগিতা না করি তাহলে অনেক মানুষ মারা যেতে পারেন।

ওদিকে চলমান অবস্থায় মুখ খুলেছেন সাবেক ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামা। ডনাল্ড ট্রাম্পের একগুঁয়েমির জবাব দিয়েছেন তিনি ইনস্টাগ্রামে। এতে তিনি তার স্বামী বারাক ওবামার সময়ে যে জটিলতার মুখোমুখি হয়েছিলেন ট্রাম্পের পক্ষ থেকে, সেই কঠিন সময় সম্পর্কে কথা বলেছেন। বলেছেন, চার বছর আগে ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজে স্বাগত জানানো কতটা কষ্টের ছিল তার কাছে। তার ভাষায়, ‘আমার স্বামী সম্পর্কে তিনি বর্ণবাদ বিষয়ক মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছিল। এতে আমার পরিবার বিপদে পড়ে গিয়েছিল।’ বারাক ওবামার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তার জন্মস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প। পরে তার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এ সম্পর্কেই আভাস দিয়েছেন মিশেল। তিনি লিখেছেন, নির্বাচনের ফলের প্রতি সম্মান দেখানো আমাদের দেশের প্রতি ভালবাসা। নির্বাচনের সেই ফল পছন্দ করি অথবা না করি তা মেনে নেয়া উচিত। প্রেসিডেন্সি কোনো ব্যক্তিবিশেষ বা কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়। তাই এই ফল না মেনে দেশের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে বিপদে ফেলে দেয়া হচ্ছে। এটা কোনো গেম খেলা নয়। তাই তিনি মার্কিনিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে দলমত নির্বিশেষে সবার প্রতি তার সর্নিবন্ধ অনুরোধ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে মেনে নিন। ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে মসৃণ করুন। কারণ, মার্কিনিরা তাদের রায় দিয়ে দিয়েছেন। এখন সেটার প্রতি সম্মান দেখানোর বড় দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের।

এ অবস্থায় নতুন প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পেশাদারিত্ব নিয়ে সোমবার কথা বলেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রায়েন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর চেয়ে তার সুর ছিল ভিন্ন। পম্পেও তো গত সপ্তাহে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের বিষয়ে কথা বলেছেন। আরও অনেকে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় থেকে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: