মিয়ানমার সেনাবাহিনী ক্ষমা চাইলো

141

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ছবি নিয়ে মিথ্যাচার করার ঘটনা স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রকাশিত বইয়ে দুইটি ছবি ভুলভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে আমরা দুঃখিত।’ গতকাল মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দাপ্তরিক পত্রিকা মাওয়াবি ডেইলি বিবৃতিটি প্রকাশ করে।
সম্প্রতি দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ‘মিয়ানমার পলিটিক্স অ্যান্ড তাতম্যাডো’ শীর্ষক একটি বই প্রকাশ করে। সেখানে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অধ্যায়ে তারা মোট আটটি ছবি প্রকাশ করে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে এর অন্তত তিনটি ছবি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়। একটি ছবিতে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের গণহত্যার দৃশ্যকে তারা রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের অত্যাচারের দৃশ্য বলে বর্ণনা করে। আরেকটি ছবিতে রুয়ান্ডা থেকে তানজানিয়ায় শরণার্থীদের পলায়নের দৃশ্যকে বাংলাদেশিদের মিয়ানমারের অনুপ্রবেশের দৃশ্য বলে উল্লেখ করা হয়। তৃতীয় ছবিতে একটি নৌকার ছবি দিয়ে বলা হয়, পানিপথে মিয়ানমারে ঢুকছে বাঙালিরা। অথচ এটি থাইল্যান্ডে অভিবাসনপ্রত্যাশী বাঙালি ও মিয়ানমারের নাগরিকদের একটি ছবি। রয়টার্সের বিশ্লেষণে মোট তিনটি ছবি মিথ্যা প্রমাণিত হলেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দুইটি ছবির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।

গতকাল তারা মিয়ানমার পলিটিক্স অ্যান্ড তাতম্যাডো বইটিতে ভুল করে প্রকাশিত ছবি দুটোর জন্য ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে। এতে তারা বলেছে, আমরা বুঝতে পেরেছি যে ছবি দুটো ভুলভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা এজন্য পাঠক ও ছবিটির প্রকৃত মালিকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তবে তারা ছবি দুটোর ক্যাপশন নিয়ে কোনো কথা বলেনি। ছবির ক্যাপশনে যে তথ্য দেয়া হয়েছে সেটা নিয়েই মূলত বিতর্কের শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়া জানতে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জাও হতে ও সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল টুন টুন নির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পাওয়া যায়নি।