যুক্তরাষ্ট্র ইরান সমর্থিত ‘মিলিশিয়া’দের টার্গেট করে ইরাক ও সিরিয়ায় বিমান হামলা শুরু করেছে । পেন্টাগন থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মিলিশিয়া’রা মার্কিন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। এর জবাবে তাদের ‘অপারেশনাল এবং অস্ত্রের গুদামে’ বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পরিষ্কার করেছেন যে, তিনি মার্কিনিদের সুরক্ষিত রাখতে ব্যবস্থা নেবেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে আরো বলা হয়, প্রেসিডেন্ট বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ নিয়ে দ্বিতীয় দফা ‘ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া’দের বিরুদ্ধে বিমান হামলা অনুমোদন করেছেন। কয়েক মাসে ড্রোন ব্যবহার করে ইরাকে মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটিগুলোতে বেশ কয়েকবার হামলা চালানো হয়েছে। তবে এর জন্য ইরানের দিকে আঙ্গুল তুললেও তারা এতে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে এখনও ইরাকে অবস্থান করছে প্রায় ২৫০০ মার্কিন সেনা। পেন্টাগনের বিবৃতি অনুযায়ী, তাদের আত্মরক্ষামূলক ওই বিমান হামলায় সিরিয়ায় দুটি স্থাপনা এবং ইরাকে একটি স্থাপনাকে টার্গেট করা হয়েছে। তারা আরো বলেছে, কাতাইব হিজবুল্লাহ এবং কাতাইব সাঈদ আল শুহাদাসহ ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গ্রুপগুলো ওইসব স্থাপনা ব্যবহার করতো।

২০০৯ সাল থেকে কাতাইব হিজবুল্লাহকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন বলে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা ইরাকের শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তার আত্মরক্ষার্থে ওই হামলা চালিয়েছে। প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি কমিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তাদেরকে পরিষ্কার এবং দৃঢ় বার্তা দেয়া হয়েছে।

তবে ওই হামলায় কেউ নিহত বা আহত হয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি পেন্টাগন। বার্তা সংস্থা এএফপির মতে, বৃটেনভিত্তিক পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন সিরিয়ান অবজার্ভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, হামলায় সিরিয়ায় ৫ মিলিশিয়া যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। অন্যদিকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা’র মতে, হামলায় একটি শিশু নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে তিনজন।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের মাধ্যমে উৎখাত করার পর থেকেই ইরাকের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব বাড়ছে ইরানের। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার জন্য বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে যখন ইরান আলোচনা করছে তখনই এই হামলা চালানো হলো। ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র সহ পশ্চিমা কিছু দেশ বিশ্বাস করে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। কিন্তু এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।

ওই কর্মসূচিকে সীমিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নেতৃত্বে ৬ বিশ্বশক্তি ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি করে। এর বিনিময়ে ইরানের বিরুদ্ধে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করা হয়। কিন্তু বারাক ওবামার পর যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় আসেন ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি একতরফাভাবে ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং ইরানের ওপর আগের অবরোধ নতুন করে আরোপ করেন। এর নিন্দা জানায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অনেক দেশ। এরপর ২০২০ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসেন জো বাইডেন। তিনি নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচিত হলে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরে যাবে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে সেই প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন পর্যায়ে।

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728