রক্তে ভেসেছিল বাংলাদেশ ১৫ আগস্ট শুধু ৩২ নম্বর নয়

14

‘‘কবে থেকে ভাসছে বাতাসে..’এখনো রক্তের রঙ ভোরের আকাশে/পৃথিবীও বিশাল পাখায় গাঢ় রক্ত মেখে’। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর সপরিবারে জাতির জনককে নৃশংস হত্যাকা-ের বেদনার প্রেক্ষাপটে লেখা কবি সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা ‘পনেরো আগস্ট’-এর পঙ্ক্তি এগুলো। বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানকে হারানোর বেদনা এভাবেই উঠে এসেছে কবিতাটিতে। আজ সেই ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস, স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী। দিনটিতে তাঁর চলে যাওয়া নিয়ে রোদন করবে বাঙালি। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করবে দিবসটি। এ উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এতে তারা জাতির পিতাকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ১৫ আগস্টের সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং পরম দয়াময় আল্লাহর দরবারে তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তারা।
advertisement

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সূর্য উদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল ৬টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল। দুপুর ১২টায় টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। উক্ত কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল, গোপালগঞ্জ জেলা ও

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

বাদ জোহর কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। একইভাবে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জাসহ উপাসনালয়গুলোতে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও ১৬ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৪টায় বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ জাসদ ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি রাজধানীর পল্টনে মৈত্রী ভবন মিলনায়তনে আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের জাতীয় শোক দিবসে দুর্নীতি, দুঃশাসন আর জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বঙ্গবন্ধুর আজীবন উৎসাহের কথা বলেছেন। দলটির উদ্যোগে বিকাল ৫টায় কাকরাইলে জাতীয় পার্টি অফিসে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ জাসদ ও তার সহযোগী, অঙ্গ সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ দলীয় কার্যালয় (২২/১, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা) সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোর রাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল। পৃথিবীর এই জঘন্যতম হত্যাকা- থেকে বাঁচতে পারেননি বঙ্গবন্ধুর অনুজ শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত এবং তার ছেলে আরিফ ও সুকান্ত বাবু, মেয়ে বেবি, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুল নাঈম খান রিন্টু ও কর্নেল জামিলসহ পরিবারের ১৬ জন সদস্য ও ঘনিষ্ঠজন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস যথাযথ মর্যাদা এবং ভাবগম্ভীর পরিবেশে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে পালনের জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংস্থাসমূহের সকল স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দলের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সব শাখার নেতৃবৃন্দকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দিবসটি পালন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।