রাশিয়া কী জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে

18

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করবে ফিনল্যান্ড বলছে, কয়েক দিনের মধ্যেই তারা । এই কাজে মোটেই বিলম্ব করতে রাজি নয় সুইডেন। এ দুটি দেশ ন্যাটোতে যোগদানের ব্যাপারে প্রচন্ড নাখোশ রাশিয়া। মস্কো জানিয়েছে, ন্যাটো যদি রুশ সীমান্তের দিকে সম্প্রসারণ করে তা হলে তারা সমুচিত জবাব দেবে। এ নিয়ে প্রস্তুতিও নিচ্ছে মস্কো।

রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধ যে কিয়েভের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা পোষণের কারণেই হচ্ছে তা এখন কারও অজানা নয়। রুশ সীমান্তবর্তী প্রতিবেশী ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগ দিতে চেয়েছিল, আর মস্কো তাতে বাধা দিয়েছিল। এই দ্বন্দের জেরেই আজকের যুদ্ধ। বলা হচ্ছে এই যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এখন ফিনল্যান্ড ও সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দিচ্ছে। তা হলে কি রাশিয়া এখনই ফিনল্যান্ড-সুইডেনে আক্রমণ করে বসবে? না, হিসাবটা এতটা সহজ নয়; কিন্তু রাশিয়া যে বসে থাকবে না এ কথা ঠিক।

গতকালই খবরে বলা হয়েছে, রুশ বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘রাও (আরএও) নর্ডিক’ ফিনল্যান্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফিনল্যান্ড আগের সরবরাহকরা বিদ্যুতের পাওনা মূল্য পরিশোধ করেনি; কিন্তু দুই দেশের বাণিজ্য ইতিহাসে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল এবং এটি যে ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে অগ্রসর হওয়ার প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা, তা পর্যবেক্ষকরা অনুমান করছেন।

ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট সাউলি নিনিস্তো বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তারা ন্যাটোতে যোগদানের আবেদন করবে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে টেলিফোনে একথা বলেও দিয়েছেন। তিনি পুতিনকে আরও বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনে যে হস্তক্ষেপ করেছে তাতে ফিনল্যান্ডের নিরাপত্তার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, টেলিফোনে আলোচনা অনেকটা সোজা-সাপ্টা হয়েছে।

যে কোনো ধরনের উত্তেজনা এড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে; কিন্তু পুতিন বলছেন, ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি ভুল সিদ্ধান্ত। পুতিন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টকে বলেছেন, বর্তমানে ফিনল্যান্ডে নিরাপত্তায় কোনো ধরনের হুমকি নেই। পুতিন আরও বলেছেন, এমনকি ফিনল্যান্ডের দীর্ঘদিনের নিরক্ষেপ অবস্থান পরিত্যাগ করা বড় ভুল হবে।

প্রসঙ্গত, সোভিয়েত ইউনিয়নের হুমকি এড়াতে ১৯৪৯ সালে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো গঠন করা হয়। ওই সময় থেকেই রাশিয়া নিকটবর্তী প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে ন্যাটোতে যোগদানের ব্যাপারে হুমকি দিয়ে আসছে।

এদিকে ন্যাটোতে যোগদানের ব্যাপারে ফিনিশদের মধ্যে আগে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। কয়েক বছর আগেও মোট জনগোষ্ঠীর ২০-২৫ শতাংশ জনগণ ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পক্ষে ছিলেন; কিন্তু ইউক্রেনে হামলার পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ শতাংশে। ন্যাটোতে যোগ দিতে চান অন্যদিকে সুইডেনের ৫৭ শতাংশ জনগণ ।