‘লজ্জা-শরম নেই ওদের ’

43

মোটেও আশপাশের লোকজনকে তোয়াক্কা করছে না । হেঁটে চলার সরু রাস্তার পাশে ঘাসের ওপরে বসেছে দু’জন। যুবক ও কিশোরী।  কিশোরী মেয়েটি নিজ থেকেই ছেলেটিকে জড়িয়ে ধরছে। কখনও বুকের কাছে যুবকের মাথা ধরে রাখছে। এরমধ্যেই চলছে আদর, আহ্লাদ। লিপিস্টের দাগ বসছে যুবকের গলায়, ঘাড়ে, গালে। কখনও কখনও তা ঠোঁট-মুখ হয়ে যাচ্ছে যুবকের পাকস্থলিতে। পাশে দিয়ে যেতে যেতে বয়স্ক এক হকার নারী বলছেন, নির্লজ্জ্ব, বেহায়া পোলা-মাইয়া।

ওদের একদম লজ্জা-শরম নাই।

ঘটনাটি রাজধানীর সৌন্দর্যময় স্থান হাতিরঝিলের। প্রাপ্ত বয়স্কদের পাশাপাশি অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মিলন মেলা ঘটছে এখানে। তারা বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। মা-বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বন্ধু, প্রেমিকের সঙ্গে বের হয়ে অবাধে মেলামেশা করছে। আরও ভয়ঙ্কর বিষয় হচ্ছে,  মধুবাগ, মগবাজার, বেগুনবাড়ি এলাকার বিভিন্ন বাসা বাড়িতেও একান্তে সময় কাটাচ্ছে এসব জুটির অনেকে। এসব এলাকায় অর্থের বিনিময়ে সহজেই বাসা ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে। না বুঝেই অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েরা বখাটে বিভিন্ন তরুণের সঙ্গে সম্পর্কে জড়াচ্ছে। ওই এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই দল বেঁধে বখাটেরা আড্ডা দেয়। বিকট শব্দে মোটরসাইকেল চালিয়ে দর্শনার্থীদের বিরক্তির কারণ হয়। ঘটে দুর্ঘটনাও।

গত বছর ১৪ই আগস্ট বিকেলে মাহমুদা আক্তার বীথি নামে এক কিশোরী নিহত হয় হাতিরঝিলে। নাইম নামের এক বন্ধুর মোটরসাইকলে উঠেছিল বীথি। বেপরোয়া গতিতে বাইক চালাচ্ছিলো নাইম। এক পর্যায়ে বাইক থেকে পড়ে যায় বীথি। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে বীথিকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা তাকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতলে রেফার্ড করেন। ১৬ই আগস্ট রাত ১টায় সেখানে মারা যায় বীথি। আহত বীথিকে হাসপাতালে রেখেই নাইম পালিয়ে যায়। নিহত বীথি ছিলো ধলপুর কিন্ডার গার্টেন হাইস্কুলের ১০ শ্রেণির ছাত্রী। তার মা রওশন আরা অভিযোগ করেছেন, বীথিকে মোটারসাইকেল থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে।

এসব দুর্ঘটনা ঘটলেও থেমে থাকে না বখাটেরা। অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের নিয়ে সন্ধ্যার পর বাইকে বের হয় তারা। হাতিরঝিলের ব্রিজে দাঁড়িয়ে, বাইকে বসে গল্প করে। জনসম্মুখেই একে-অন্যকে জড়িয়ে ধরে। এরমধ্যে আরেকটি গ্রুপ দর্শনার্থীদের নানাভাবে জিম্মি করে। এসব বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে হাতিরঝিল এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। গত ২৬শে জানুয়ারি থেকে প্রায় প্রতিদিনই অভিযান চালানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪শ’ কিশোর-তরুণ বখাটেদের আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি সোহেল রানা জানান, বখাটেপনাসহ অপরাধ নির্মূলে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ে কোথায় যাচ্ছে, কী করছে এ বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।