Home / চট্টগ্রাম / শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ হাটহাজারীতে বেতনের দাবিতে

শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ হাটহাজারীতে বেতনের দাবিতে

সকালে বিক্ষোভ করে ফোরএইচ গ্রুপের মালিকানাধীন ফোরএইচ লিঙ্গারি লিমিটেড প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আড়াই হাজার শ্রমিক চট্টগ্রাম-হাটহাজারী, খাগড়াছড়ি- রাঙ্গামাটি মহাসড়কের নতুনপাড়া এলাকায় (১৪মে) বৃহস্পতিবার । এ সময় মালিকপক্ষের লোকজন শ্রমিকদের সাথে দুর্ব্যবহার করে বলেও অভিযোগ উঠে। আন্দোলনরত শ্রমিকরা মানবজমিন কে জানান, করোনা মহামারিতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিতে মালিক পক্ষ তাদেরকে কাজ করতে বাধ্য করেছিল। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে শ্রমিকরা পায়ে হেঁটে কাজে অংশ নিয়েছে। ২৬ এপ্রিল শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলে ‘পূর্ণাঙ্গ সবেতনে ছুটি’ ঘোষণা করেছিল ফোরএইচ গ্রুপের মালিক পক্ষ। এ সময় দূর-দূরান্ত থেকে যারা চলে এসেছিলেন তাদের অনেকেই কারখানার কাছাকাছি বসবাস করা শ্রমিকদের বাসায় উঠে। সেখান থেকে তারা কাজে যোগ দেয়। বৃহস্পতিবার বেতন হিসেব করতে গিয়ে তাদেরকে ৬০ ভাগ বেতন দিতে চাইলে শ্রমিকরা আপত্তি জানান।

অভিযোগ উঠেছে, শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে আন্দোলনক শুরু করলে মালিকপক্ষের লোকজন শ্রমিকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে দুর্ব্যবহারও করে। ১৪ বছর এই কারখানায় কাজ করা এক শ্রমিক মানবজমিন কে বলেন, ‘১৪টি বছর এই কারখানায় কাজ করেছি। মালিক পক্ষ সবেতনে ছুটি ঘোষণা করে তখন আমাদের আন্দোলন থেকে সরিয়ে এনেছে। এখন ৪০ ভাগ কেটে রাখতে চায়। বেতনের ৬০ ভাগ দিয়ে ঘরভাড়া দিতে পারলেও না খেয়ে থাকতে হবে আমাদের। নিয়ম অনুযায়ী আমরা হাজিরা বোনাস পাই। সামনে ঈদ বোনাসও পাওয়ার কথা রয়েছে। আমরাতো বোনাস নিয়ে কিছু বলছি না। বেতনটা পুরো না পেলে চলতে পারবো না। এই মানবিক আচরণতো মালিক পক্ষ আমাদের দেখাতেই পারে৷’ আরেক শ্রমিকের অভিযোগ, কারখানার শ্রমিকদের পরিশ্রমের অর্জনে মালিক পক্ষ হেড অফিসের সবার বেতন দিয়েছে শতভাগ। আমাদের কেন বেতন কাটবে? আমরা না থাকলে হেড অফিস চলবে কীভাবে? শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, মালিকরা আমাদের বেতন না দিয়ে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ব্যবসায় কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে ফোর এইচ গ্রুপের এক পরিচালক আগ্রাবাদ এলাকার চার তারকা মানের হোটেলের মালিকানায় যুক্ত হয়েছে বলে খবরেই প্রকাশ হয়েছে। এখন আমাদের বেতন দিতে তারা গড়িমসি করছেন। তাই আমরা আন্দোলনে নেমেছি বাধ্য হয়ে। হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ আলম মানবজমিন কে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম। শ্রমিকদের বুঝিয়ে কারখানায় পাঠানো হয়েছে। তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে, সরকার ঘোষিত বেতনের কম তারা পাবে না। এরপর তারা বিক্ষোভ বন্ধ করে কাজে যোগ দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: