শ্রমিকরা বরিশাল থেকে ২১ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিলো পরিবহন

74

দুই বাস শ্রমিককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বরিশাল থেকে ২১ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা। এদিকে দুই শ্রমিককে গ্রেপ্তার লোক দেখানো উল্লেখ করে ফের বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে বরিশাল- পটুয়াখালী মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, ববি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রুপাতলী বাস টার্মিনাল থেকে এমকে পরিবহনের সুপারভাইজার আবুল বাশার রনি (২৭) ও সাউথ বেঙ্গল পরিবহনের হেলপার ফিরোজ (২৪) কে  গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই খবর শিক্ষার্থীদের কাছে পৌছানোর পর শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বরিশাল পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। ওই দুইজন হামলার ঘটনার সঙ্গে আদৌ জড়িত কি না এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন তারা। একই সঙ্গে বিষয়টিকে লোক দেখানো দাবি করে তাদের দেয়া তালিকা অনুসারে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অন্যতম নেতা মাহামুদুল হাসান তমাল জানান, প্রশাসন অনেকটাই গাছাড়া ভাব দেখিয়েছে।

সেজন্য আমাদের মৌলিক অধিকারের জায়গা থেকে আন্দোলন করতে হচ্ছে। আর সড়ক অবরোধের কারণে জনগণের যে ভোগান্তি হচ্ছে তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে এছাড়া আমাদের কিছু করার নেই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
অপরদিকে, দুই শ্রমিকদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বরিশাল থেকে ২১ রুটে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাস শ্রমিকরা। এতে চরম বিপাকে পড়েছে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকসহ, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা জেলার মানুষ।
আন্দোলনের বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস বলেন, শিক্ষার্থীদের যে তিনটি দাবি ছিলো সেগুলো মানা হয়েছে। এখন তাদের আর কি দাবি রয়েছে সেটা শুনবো। তারপর সেই অনুযায়ী আমরা পদক্ষেপ নেব।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে রুপাতলী বিআরটিসি বাস কাউন্টারে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে। এরপর রাতে রুপাতলী হাউজিং এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মেসে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে পরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। এতে ১১ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। সে ঘটনার বিচারের দাবিতেই আন্দোলনে নামে শিক্ষর্থীরা।