ষড়যন্ত্র হচ্ছে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বানচালে : প্রধানমন্ত্রী

13

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোসহ দেশে সামপ্রতিক বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ‘রহস্যজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে , একটি মহল পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বন্ধের ‘ষড়যন্ত্র’ করছে। এ বিষয়ে তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশ এবং আইশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত অনান্য বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকারও নির্দেশ দিয়েছেন সরকার প্রধান। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন ২৫ জুন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক থাকার বিষয়টি কয়েকবার এসেছে শেখ হাসিনার বক্তব্যে। খবর বিডিনিউজ ও বাংলানিউজের। তিনি বলেন, আপনাদের সবাইকে কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, যারা এর বিরোধিতা করেছিল, তাদের কিন্তু একটা উদ্দেশ্য আছে, কিছু কিছু তথ্যও আমরা পেয়েছি। এমন একটা ঘটনা ঘটানো হবে, যেন ২৫ তারিখে আমরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করতেই না পারি। কী করবে তা জানি না।
সীতাকুণ্ডের ডিপো ছাড়াও পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন এবং পদ্মায় ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিক্ষিপ্ত কয়েকটা জায়গায় একসাথে আগুন ধরে কীভাবে? আর রেলের আগুনটা এটা কিন্তু আমরা একটা ভিডিও পেয়েছি নিচের দিক থেকে, রেলের চাকার কাছ থেকে আগুন জ্বলছে। এটা কী করে হয়? এই সমস্ত জিনিসগুলো রহস্যজনক। সেজন্য সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ‘স্থাপনাগুলোর’ দিকে সবাইকে নজর রাখার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি পদ্মা সেতু নিয়ে হওয়া ‘অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের’ কথা তুলে ধরে এর পেছনে মুহাম্মদ ইউনূসের প্রসঙ্গ টানেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিভিন্ন সময় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সবচেয়ে বেশি সুযোগ যাকে দিয়েছিলাম, সেই বেইমানিটা করলো। ড. ইউনূসকে সুযোগ দেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৮ সালে যখন ভয়াবহ বন্যা, সে সময় গ্রামীণ ব্যাংকে প্রথমে একশ কোটি, তারপর দুইশ কোটি, তারপর চারশ কোটি টাকা আমি গ্রামীণ ব্যাংকে দিয়েছিলাম। ব্যাংকটা যেন চালু থাকে। কারণ গরিব মানুষের সেবা, গরিব মানুষের কথা চিন্তা করে। কিন্তু গরিবের কাছ থেকে প্রায় ৪৭ শতাংশ পর্যন্ত সে ইন্টারেস্ট নিতো, এটি হচ্ছে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয়। দ্বিতীয় দফায় আবারও সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দ্বিতীয় ছিল যখন আমি ডিজিটাল সিস্টেম নিয়ে আসলাম সমস্ত টেলিকমিউনিকেশনে, আগে সব এনালগ ছিল এবং মোবাইল ফোনের ব্যবসা দিয়ে দিলাম প্রাইভেট সেক্টরে, তাকেও একটা ব্যবসা দেওয়া হলো। আরও যে দুটো দিয়েছিলাম তাদের বেশি সুযোগ দেইনি। গ্রামীণফোনের জন্য রেলওয়ে ফাইবার অপটিঙ ব্যবহারের সুযোগ আমরা দিয়েছিলাম। ১০০ কোটি টাকার একটা ডিপোজিট দিতে সেটা থেকে তাকে মওকুফ করেছিলাম। তাকে অন্যান্য সুবিধা দিয়েছিলাম। সব ধরনের সুবিধা তাকে এত বেশি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই লোকই এমডি পদে থাকতে পারবে না। অথচ এটা আইনগত ব্যাপার। এটা জানার পরও সে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর থেকে শুরু করে সরকারের সকলকে আসামি করে দুইটা মামলা করে। কিন্তু প্রত্যেকটা মামলা হেরে যায়। হেরে গিয়ে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে যায়।
পাবনার রূপপুরে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেল, এঙপ্রেসওয়ে, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে সংশ্লিষ্টদের তৎপর হতে নির্দেশ দেন তিনি। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।