স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম জাতীয় সংসদে আবারও মাইক–বিভ্রাট হয়েছে। এ কারণে আজ রোববার বিকেলে সংসদের অধিবেশন ২০ মিনিট বন্ধ ঘোষণা করেন। তিনি বলেছেন, এভাবে বারবার বিভ্রাটের ঘটনা জাতির জন্য কলঙ্কজনক।

মাগরিবের নামাজের আগে সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামের বক্তব্যের সময় হঠাৎ মাইকে বিভ্রাট দেখা দেয়।

আজ রোববার সংসদের চারটি বিল পাসের পর চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বক্তব্য দিতে দাঁড়ান। সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩২ বছর নির্ধারণ করে অন্তর্বতী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ অনুমোদন বিলে বিরোধী দল ‘হ্যাঁ’ ভোট না দেওয়ায় তিনি সমালোচনা করেন। এ সময় বিরোধী দল প্রতিবাদ করলেও চিফ হুইপ বক্তব্য চালিয়ে যান। তিনি বলেন, চাকরির জন্য জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে, কিন্তু বিরোধী দল বয়স বৃদ্ধির বিলে সমর্থন না করায় বিস্মিত হয়েছি।

এ সময় সরকার দলের সদস্যরা চিফ হুইপের বক্তব্যকে সমর্থন জানান। দুই পক্ষের হট্টগোলে তখন নুরুল ইসলামের বক্তব্য শোনা যাচ্ছিল না। স্পিকার যখন চিফ হুইপকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বক্তব্য শোনা যাচ্ছে না, বসে পড়ুন।

এ সময় সদস্যরা সমস্বরে বলেন, তাঁরা স্পিকারের কথা শুনতে পাচ্ছেন না। তখন হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তাহলে মুলতবি করে দেই’। এ পর্যায়ে স্পিকার মাইক–বিভ্রাটের জন্য ২০ মিনিট, মাগরিবের নামাজের জন্য ২০ মিনিটসহ ৪০ মিনিটের জন্য সংসদ অধিবেশন মুলতবি করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ১৮ মিনিট পর সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

এর আগে গত ১২ মার্চ সংসদের প্রথম দিনেও মাইক–বিভ্রাট দেখা দেয়। সেদিন অধিবেশন বন্ধ ছিল প্রায় ৪০ মিনিট।

মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অধিবেশন শুরু হলে স্পিকার মাইক–বিভ্রাটের কারণ সংসদকে জানান। তিনি বলেন, তিনি জেনেছেন, দুটি কারণে এই বিভ্রাট। একটি কারণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সংসদের আসবাবপত্র তছনছ করেছে। আরেকটি কারণ হলো সংসদে মাইক সিস্টেম যারা স্থাপন করেছে, সেগুলোর আদৌ কোনো ওয়ারেন্টি ছিল কি না, এর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যাচ্ছে না।

স্পিকার বলেন, বোঝা যাচ্ছে হেলাফেলার সঙ্গে এই বিশাল কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। সংসদ কর্তৃপক্ষ সেই কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এসে সংসদের এই মাইক ব্যবস্থা মেরামতে তাদের কোনো আগ্রহ নেই এবং তারা এড়িয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত। স্থানীয় যে কোম্পানিটি এ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা কখনো পলাতক, কখনো দায়সারাভাবে এড়িয়ে যাচ্ছে।

স্পিকার বলেন, ‘আমি সংসদের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছি, এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি করে প্রকৃত তথ্য জানানোর জন্য। কারণ, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই হাউস, এই জাতীয় সংসদে এভাবে বারবার বিদ্যুৎ–বিভ্রাট ঘটা—এটা আমাদের জাতির জন্য, রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্কজনক।’

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতা সংসদে ঢুকে পড়ে। সে সময় সংসদের বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্র, সাউন্ড সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। পরে মেরামত করা হলেও শব্দযন্ত্রে বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে হেডফোন এবং শব্দের মাত্রা নিয়ে একাধিক সংসদ সদস্য অভিযোগ করেছেন।

স্পিকার বলেন, ‘সংসদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আবারও যদি বিদ্যুৎ–বিভ্রাট হয়, ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে লুজ কানেকশন প্রতিস্থাপন করে কাজ শুরু করতে পারবে। সুতরাং বিভ্রাট দেখা দিলে আবার বিরতি দিতে হতে পারে। অত্যন্ত অসন্তোষজনক একটি পরিস্থিতিতে আমরা সংসদের কার্যক্রম চালাচ্ছি।’
রাতে আবার বিভ্রাট

রাতে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে প্রথমে ৪০ মিনিট বক্তব্য দেন। স্পিকার তাঁকে বক্তব্য শেষ করতে আরও পাঁচ মিনিট সময় বাড়িয়ে দেন। এক মিনিট বক্তব্য দেওয়ার পর আবার মাইক বিকল হয়ে যায়। সালাহউদ্দিন আহমদ মিনিটখানেক মাইক ছাড়াই বক্তব্য দেন। এ অবস্থায় এক পর্যায়ে স্পিকার সংসদের অধিবেশন আগামীকাল সোমবার বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

 

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031