ব্রেকিং নিউজ
Home / খবর / সবজির দাম কমেনি সরবরাহ বাড়লেও

সবজির দাম কমেনি সরবরাহ বাড়লেও

সবজির সরবরাহও বেড়েছে শীতের আমেজ শুরু হবার সাথে সাথে রাজধানীর বাজারগুলোতে। তবে নাগালে আসেনি দাম। চড়ামূল্যেই কিনতে হচ্ছে সব ধরনের সবজি।
ফি বছর শীতের আমেজের সাথে রাজধানীর বাজারে শোভা পায় বাহারি সব মৌসুমি সবজি। সরবরাহ বাড়ায় দামও কম থাকে। কিন্তু এ বছর বন্যার কারণে কয়েক মাস ধরেই রাজধানীর বাজারে সবজি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। তবে এ সপ্তাহে বাজারে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও দামের তারতম্য হয়নি বলেই জানালেন ক্রেতারা। উল্টো কিছু সবজির দাম আরো বেড়েছে। পেঁয়াজ ও আলুর চড়া দাম তো আছেই।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া গাজরের দাম বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা হয়েছে। এর মাধ্যমে আবারও আগের দামে ফিরে গেল গাজর। গত সপ্তাহ বাদ দিলে তিন মাসের বেশি সময় ধরে গাজরের কেজি এক’শ টাকা রয়েছে।
গাজরের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পাকা টমেটো, শিম, উচ্ছে, বেগুন, বরবটি। গত কয়েক মাসের মতো পাকা টমেটোর কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
মাসের অধিক সময় ধরে বাজারে শীতের আগাম সবজি শিম পাওয়া গেলেও তা এখনও অনেকটাই নিম্ন আয়ের নাগালের বাইরে। অবশ্য সময়ের সঙ্গে বাজারে শিমের সরবরাহ বেড়েছে। তবে এতে দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা থাকলেও উল্টো বেড়েছে। বাজার ও মান ভেদে শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, তা গত সপ্তাহে ছিল ৮০ থেকে ১১০ টাকা।
স্বস্তি মিলছে না শীতের অন্যতম সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির দামেও। ছোট একটি ফুলকপি কিনতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা গুনতে হচ্ছে। একই দাম দিতে হচ্ছে বাঁধাকপির জন্য। মাসের অধিক সময় ধরে শীতের আগাম এই দুই সবজি এমন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে বরবটির ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ থেকে ১১০ টাকা, উচ্ছে ৯০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এ সবজিগুলোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে নতুন করে কিছুটা দাম বেড়েছে ঢেড়সের। গত সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ঢেড়সের দাম বেড়ে ৭০ থেকে ৯০ টাকা হয়েছে।
এর সঙ্গে পটল, শসা, ঝিঙা, ধুন্দুল, কচুর লতি, কাঁকরোল কোনো সবজির দামই ক্রেতাদের স্বস্তি দিচ্ছে না। শসার কেজি গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়।
পটল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। ঝিঙার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, একই দামে বিক্রি হচ্ছে কচুর লতি। এ সবজিগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে।
এছাড়া লাউয়ের পিস গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এক হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা।
স্বস্তি মিলছে না কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দামেও। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পোয়া (৩৫০ গ্রাম) বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আর পেঁয়াজ আগের মতো কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা।
এদিকে সরকার দুই দফায় আলুর দাম বেঁধে দিলেও বাজারে সরকারের নির্দেশনার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সরকার প্রথমে খুচরা পর্যায়ে আলুর কেজি সর্বোচ্চ ৩০ টাকা এবং পরবর্তীতে ৩৫ টাকা বেঁধে দেয়। তবে ভোক্তারা এক কেজি আলু ৪৫ টাকার নিচে কিনতে পারছেন না। এমনকি এখন কোথাও কোথাও আলুর কেজি ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর বাজারে আসা নতুন আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকার ওপরে।
কারওয়ানবাজারে ব্যবসায়ী আক্কাছ আলী বলেন, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপির সরবরাহ বেড়েছে। তবে বাজারে যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে সরবরাহ তার তুলনায় কম। মে কারণে দামটা কমছে না। আমাদের ধারণা কিছুদিনের মধ্যে সবজির দাম কমে আসবে। কারণে বাজারে দেখতে দেখতে ভরপুর শীতের সবজি চলে আসবে।
খিলগাঁওয়ে ব্যবসায়ী কামরুল বলেন, হালকা শীত পড়তে শুরু করেছে। শীতের সবজিও বাজারে বাড়ছে। তবে বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে এবার সবজির অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। যে কারণে এখনও সবজির এতো দাম। তবে সামনে বন্যা বা বৃষ্টির সম্ভাবনা কম, সে কারণে কিছুদিনের মধ্যে সবজির দাম কিছুটা কমবে বলে আমাদের ধারণা।
কারওয়ানবাজারে বাজার করতে আসা ইকরামুল হক বলেন, শীত এসে গেছে। বাজারেও বিভিন্ন সবজি আসছে। কিন্তু আমাদের কোনো লাভ হচ্ছে না। নামমাত্র সবজি কিনতেই পকেটের সব টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে সবজির বাড়তি দামে নিয় ভুগছি। আমরা পেয়ে উঠছি না। দিন দিন খরচ বাড়ছে। অথচ রোজগার বাড়ার বদলে কমে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: