সমুদ্র থেকে সরে আসছে নৌযান দূর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি শুরু,

17

gur

ট্টগ্রাম ১৯ মে : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন পশ্চিম – মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত ঘূর্ণিঝড রোয়ানো উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রেক্ষিতে দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রশাসন। চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলাগুলোর প্রশাসন বৃহস্পতিবার বিকালে বৈঠক করে সম্ভাব্য করনীয় নির্ধারন করেছে। উদ্ভুদ পরিস্থিতিতে সন্ধ্যায় জরুরী বৈঠকে করেছে ।

ঘূর্ণিঝড় এগিয়ে আসার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বহি: নোঙ্গরের জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাস বন্ধ করে নিরাপদে সরে এসেছে লাইটারেজ জাহাজগুলো।একই সাথে মাছ ধরার নৌকা,  ট্রলার ও অনান্য নৌযানগুলো কর্ণফুলী নদীতে নিরাপদ আশ্রয় নিযেছে।

বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় রূপ নেওয়াতে দেশের চারটি সমুদ্র বন্দরে চার নম্বর স্থানীয় হুশিঁয়ারী সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায়  দুই নম্বর দূরবর্তী হুশিয়ারী সংকেত পরিবর্তন করে চার নম্বর স্থানীয় হুশিঁয়ারী সংকেত জারি করা হয়েছে।

চার নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেতের মানে হচ্ছে- বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১ থেকে ৬১ কিলোমিটার। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনো আসেনি।

চট্টগ্রাম জেলার ত্রাণ ও পূন:বাসন কর্মকর্তা মনিরুল হক জানিয়েছেন, “উপকূলীয় কয়েকটি উপজেলার প্রশাসন আজ( বৃহস্পতিবার) বিকালে দূর্যোগ মোকাবেলায় করনীয় নিয়ে বৈঠক করেছে, তাদের বৈঠকের প্রেক্ষিতে সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এই সংক্রান্ত বৈঠক হয়।”

ছবি-মাসুমুল ইসলাম

durjug

জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম ঘূর্ণিঝড় আরো ঘনীভূত হয়ে উপকূলের কাছাকাছি আসলে ঝুকিপূর্ণ এলাকার মানুষ জনকে সরিয়ে নেয়া শুরু হবে, স্বল্প সময়ের নোটিশে যাতে সবাইকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা যায় সেই প্রস্তুতি রাখা হয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষনের জন্য জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম ছাড়াও উপজেলা পর্যায়ে একাধিক কন্ট্রোল রুম কাজ করবে, উল্লেখ করেন তিনি।

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় করনীয় নিয়ে দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপ পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরা বৃহস্পতিবার বিকালে জরুরী বৈঠক করেছেন।

সন্দ্বীপ পৌরসভার মেয়র জাফরউল্রাহ টিটু বলেছেন, “পৌরসভা এলাকার বসিন্দাদের সরিয়ে নিতে সেচ্ছাসেবক বাহিনী ঘটন করা হয়েছে, পুরো এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে করনীয ঠিক করতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হযেছে”

ঘূর্নিঝড়ের কারনে বঙ্গোপসাগরে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করায় সব ধরনের নৌযান নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসতে শুরু করেছে। চার নম্বর সতর্ক সংকেত জরির পর থেকে চট্টগ্রম বন্দরের বহি: নোঙ্গরের জাহাজগুলো থেকে পণ্য খালাস বন্ধ করে দিয়েছে লাইটারেজ জাহাজ।

ওয়াটার টান্সপোর্ট কো- অডিনেশন সেলের নির্বাহি পরিচালক মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, সমুদ্র উত্তাল থাকায় বিকাল থেকে অনেক জাহাজ পণ্য খালাস বন্ধ করে দেয়, চার নম্বর সতর্ক সংকেত জারির পর সব লাইটারেজ জাহাজ কাজ বন্ধ রেখে সমুদ্র থেকে  কর্নফুলী নদীর অভ্যন্তরে চলে এসেছে।

উদ্ভূদ পরিস্থিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জরুরী বৈঠকে বসেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক প্রশাসন জাফর আলম জানিযেছেন, “বৈঠকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় সম্ভাব্য করনীয় নির্ধারন করা হয়েছে, সতর্কতার সাথে এখনো বন্দরে সমুদ্রগামী জাহজ আসা যাওয়া করতে পারবে।”