স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ধর্ষণ, নিপীড়ন ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের অমানুষ বলে আখ্যা দিয়েছেন। আর এসব ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে তাদেরকে সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ধর্ষণ-নিপীড়ন নিয়ে সারাদেশে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালন করে সরকারের কড়া সমালোচনা করা হচ্ছে। তবে এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে সরকার যে কঠোর অবস্থানে রয়েছে তা জানালেন দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী।

এসব ঘটনায় জড়িতদের ‘অমানুষ’ আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার বলেন, স্থানীয় প্রশাসন সবাই কিন্তু একযোগে কাজ করছে এসব ধর্ষক, সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে।

অপরাধীরা যেন কোনোভাবে ছাড় না পায় সে জন্য নির্ভুল তদন্ত রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শিগগিরই তাদের আইনের মুখোমুখি করব, যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি পায়। সেজন্য সর্বপ্রকার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’

এরইমধ্যে নোয়াখালীসহ অন্যান্য ঘটনায় জড়িতদের অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। বেগমগঞ্জের ঘটনার প্রধান আসামি নুর হোসেন বাদলকে সাতদিন রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হোসেন সোহাগকে দেয়া হয়েছে দুদিন রিমান্ড।

অন্যদিকে ধর্ষণ-হত্যায় জড়িতদের সরকার নূন্যতম ছাড় দেয়নি জানিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ধর্ষণ এক ধরনের সন্ত্রাস। সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী। ধর্ষকদের শাস্তির বিষয়ে কোনও আপস চলবে না। এজন্য দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

সেতুমন্ত্রী মঙ্গলবার বলেছেন, ধর্ষণ, হত্যার সঙ্গে জড়িত কোনো অপরাধীকে সরকার কখনো ন্যূনতম ছাড় দেয়নি। সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী। যারাই এর সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের কেউ পার পাবে না।

যদিও বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের বক্তব্যেই ধর্ষক-দুষ্কৃতকারীরা উৎসাহিত হচ্ছে। তার অিভিযোগ, দেশে কারো নিরাপত্তা নেই। রাষ্ট্র যেখানে মদদ দেয় নিপীড়নকারীকে, সেই দেশে বসবাস করা আসলেই খুব মুশকিল।

ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি

ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি

এদিকে সোমবারের মতো মঙ্গলবারও সারাদেশে ধর্ষণ-নিপীড়নের বিচার দাবিতে উত্তাল ছিল রাজধানীর শাহবাগ। প্রগতিশীল বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মী, লেখক, কবি, শিল্পী, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও নারী অধিকারকর্মীরাও শাহবাগে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল বের করলে পুলিশ বাধা দেওয়ার পর হাতাহাতি ও লাঠিপেটার ঘটনা ঘটেছে।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930