সাবেক এমপি জুলিয়ার অস্ট্রেলিয়ার এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

33

সাবেক এমপি মিসেস জুলিয়া ব্যাংকস অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেছেন, ২০১৭ সালে পার্লামেন্ট হাউজে তাকে অসঙ্গতভাবে স্পর্শ করেছিলেন বর্তমানের ওই মন্ত্রী।মিসেস ব্যাংকস এ অভিযোগ এনেছেন তার এক স্মৃতিকথায়। বলেছেন, পার্লামেন্টের ভিতরে ভোট দেয়ার একটি অধিবেশন চলাকালীন ওই পুরুষ মন্ত্রী তার দু’পায়ের ভিতরে স্পর্শ করেছিলেন। এরপরই তিনি হাত সরিয়ে নিতে থাকেন। তবে এমন অভিযোগের বিষয়ে এর আগে অবহিত নয় বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের অফিস। তারা বলেছেন, এরকম আচরণ একেবারেই অসঙ্গত। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এসব নিয়ে নিজের স্মৃতিকথায় অভিযোগ তুলেছেন মিসেস ব্যাংকস। তার এই স্মৃতিকথা নিয়ে যে বই প্রকাশ হয়েছে, তার নাম ‘পাওয়ার প্লে: ব্রেকিং থ্রু বায়াস, ব্যারিয়ার্স অ্যান্ড বয়েস ক্লাবস’। তার পায়ে কে হাত দিয়েছিলেন, তার নাম তিনি এতে না বললেও, এটা জানিয়েছেন যে- তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার মন্ত্রীপরিষদের একজন সদস্য। তিনি লিখেছেন, তিনি এবং সরকারের অন্য এমপিরা পার্লামেন্টের নৈশকালীন ভোটের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। এমন সময় ওই মন্ত্রী প্রবেশ করেন এবং মিসেস ব্যাংকসের কাছাকাছি বসেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজের হাত মিসেস ব্যাংকসের হাঁটুর ওপরের দিকে উঠিয়ে দিতে থাকেন। তাকে আলতো করে স্পর্শ করেন। দু’পায়ের মাঝ বরাবর হাত প্রসারিত করতে থাকেন। জুলিয়া ব্যাংকস লিখেছেন, এই মন্ত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উইংয়েই আছেন, যা কোয়ালিশনের এমপিতে ভরা। তিনি অতিমাত্রায় সাহস দেখিয়েছিলেন। আমার কাছে বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল।

জুলিয়া ব্যাংকসের এই অভিযোগ আবার অস্ট্রেলিয়ায় ক্ষমতাসীন স্কট মরিসনের রক্ষণশীল সরকার এবং বিস্তৃত রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর সঙ্গে কিভাবে আচরণ করা হয় তা বড় করে সামনে নিয়ে এসেছে। এর আগে পার্লামেন্টে হাউজে সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। তা থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এ বছরের শুরুর দিকে মি টু আন্দোলন শুরু হয়। নারীরা প্রতিবাদে নেমে পড়েন রাজপথে। নিজে বই লেখার আগেও অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে যৌনতা এবং বহুগামিতা নিয়ে কথা বলেছেন মিসেস জুলিয়া ব্যাংকস।

তিনি লিবারেল পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৮ সালে এই দলটি থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। নেতৃত্বের এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে তার পদে আসেন স্কট মরিসন। এরপরই পদত্যাগ করেন ব্যাংকস। পদত্যাগের সময়ে তিনি বক্তব্যে বলেছিলেন, পার্লামেন্টের ভিতরে তিনি যে পরিমাণ অবমাননা ও ভীতির মুখোমুখি হয়েছেন তার জন্য তিনি নিন্দা জানান। এর মধ্য দিয়ে নারীর বিরুদ্ধে করপোরেট দুনিয়া কয়েক দশক পিছিয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। আর এখন তার বইয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন অস্ট্রেলিয়ায় নারীবিদ্বেষী সংস্কৃতির।

বইতে তিনি আরো অভিযোগ করেন, যখন তিনি দল থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তখন তাকে অবমাননা করেন স্কট মরিসন এবং তিনি তার কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করেন। স্কট মরিসনের একজন মুখপাত্র স্বীকার করেছেন যে, মিসেস জুলিয়া ব্যাংকসের সঙ্গে স্কট মরিসনের বেশ কয়েকবার ফোনে কথা হয়েছে। মিসেস ব্যাংকসের পার্লামেন্টারি পার্টি থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মরিসন। কি কারণে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা জানতে চেয়েছিলেন তিনি।