সুখবর আসছে সিলেট ছাত্রলীগে

143

সিলেট ছাত্রলীগে চার বছর পর সংকট কাটছে । নানা বিতর্কিত ঘটনায় জেলা ও মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। এরপর কমিটি ছাড়াই কেটে গেছে প্রায় ৪ বছর। অনেক নেতা অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে ঠাঁই নিয়েছেন যুবলীগে। এর পরও শাসক দল হিসেবে সিলেট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর অভাব নেই।

বেশ কয়েকটি উপ-গ্রুপে নেতাকর্মী রয়েছেন কয়েক হাজার। এবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উদ্যোগ নিয়েই সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। এ কারণে গতকাল সিলেট সফর করেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

তাদের সফরকে ঘিরে গতকাল ফের চাঙ্গা হয়ে উঠেছিল ছাত্রলীগ। সকালে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের অভ্যর্থনা জানান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। এ সময় সেখানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খানসহ জেলা ও মহানগরের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এভাবে ছাত্র সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সফরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এমন আগ্রহ অতীতে লক্ষ্য করা যায়নি। এবার ছাত্রলীগকে ঢেলে সাজাতে আগ্রহের সঙ্গেই তারা বিমানবন্দরে যান বলে দলীয় কর্মীরা জানিয়েছেন।
ছাত্রলীগ সভাপতি জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখককে বরণ করে নিয়ে আসেন। সিলেট ছাত্রলীগে সমস্যা বড়ভাই ও দাদারা। তারাই গ্রুপ-উপগ্রুপের ভাগ করে দিয়েছে ছাত্রলীগকে। আর নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে ভাই ও দাদারা ছাত্রলীগকে ব্যবহার করেন। এতে করে সিলেটে ছাত্রলীগ বারবার বিতর্কিত হচ্ছে। ত্যাগী কর্মীদের দাবি- ছাত্রলীগকে চলতে দিবে ছাত্রলীগের মতো। অছাত্র, বয়োজেষ্ঠদের এনে ছাত্রলীগকে চালানোর কারণে সিলেটে সংগঠনের অবস্থান থাকার পরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হতে পারছে না। এদিকে গতকাল সিলেটের রিকাবীবাজারস্থ নজরুল অডিটোরিয়ামে কর্মিসভা করেছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। কর্মিসভায় ভেতরে ও বাইরে হাজারো নেতাকর্মীর অবস্থান ছিল। ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাকে স্বাগত জানিয়ে পোস্টার, ব্যানারে সয়লাব হয়ে যায় রিকাবীবাজার এলাকা। প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয় সিলেটে ছাত্রলীগের কর্মীদের মধ্যে। পরে কর্মিসভায় সুখবর দেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। তিনি বলেন, ‘আমরা সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের যে কমিটি দেবো সে কমিটির নেতৃত্বে আপনারা কাজ চালিয়ে যাবেন। ত্যাগী, স্বচ্ছ ধারার নেতা এবং ছাত্রদের দিয়ে গঠন করা হবে ছাত্রলীগের কমিটি। নিজেদের মধ্যে কোন্দল না করতে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে যান।’ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘আপনারা সিলেট ছাত্রলীগ আমাদের অনেক দিয়েছেন। এখন আমাদের দেবার পালা। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি দেয়া হবে। আমরা যে কমিটি দেব সেই কমিটির নেতৃত্বে আপনারা কাজ করবেন।’ এদিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের এই ঘোষণায় প্রাণ ফিরেছে সিলেট ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে। সিলেটে ছাত্রলীগকে ঢেলে সাজাতে তাদের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আশ্বস্ত করেন।
সিলেট ছাত্রলীগের নেতারা জানান, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটি গঠন করা হয় ২০১৪ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর। শাহরিয়ার আলম সামাদকে সভাপতি ও এম রায়হান চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করে সে সময় ১০ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরের বছর ২০১৫ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর আরো ১৩১ সদস্য যোগ করে ১৪১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন পায়। চার মাসের মাথায় ২০১৬ সালের ২৫শে মার্চ সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করে কেন্দ্র। ৯ মাস পর ১১ই ডিসেম্বর কমিটির ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। ২০১৭ সালে ১৮ই অক্টোবর কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। এরপর বারবার সিভি জমা নিলেও কমিটি দিতে ব্যর্থ হয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কমিটি ছাড়াই ৪ বছর ধরে চলছে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগ।
২০১৫ সালের ২০শে জুলাই আবদুল বাছিত রুম্মানকে সভাপতি ও আব্দুল আলীম তুষারকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর ছাত্রলীগের ৪ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। সাড়ে ৩ বছরেও কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে না পারা এবং নানা অভিযোগে ২০১৮ সালের ২১শে অক্টোবর বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এ কমিটি।