সেতুমন্ত্রীর ভাই কাদের মির্জা ফের হরতাল ডাকলেন

7

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা দলীয় এক নেতার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে হরতাল ডেকে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই। তবে তখন বড়ভাইয়ের নির্দেশে হরতাল প্রত্যাহার করলেও আবারো নিজ এলাকায় অর্ধদিবস হরতালের ডাক দিয়েছেন দেশজুড়ে আলোচিত সদ্যবিজয়ী এই মেয়র।

সোমবার সন্ধ্যায় বসুরহাট রূপালী চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে আগামী ৩১ জানুয়ারি রবিবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অর্ধদিবস হরতাল ডাকেন আবদুল কাদের মির্জা। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে দিচ্ছেন না। ওবায়দুল কাদের আমাদেরকে রক্তচক্ষু দেখাচ্ছেন। আমি কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় করি না।’

হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করে কাদের মির্জা বলেন, ‘হরতালের দিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জের কোথাও পাখিও উড়তে পারবে না। এরপর ঢাকাভিত্তিক কর্মসূচি হবে, প্রেস ব্রিফিং হবে, নোয়াখালীর অনেক নেতাকর্মী, মেয়র সেখানে উপস্থিত থাকবেন।’

এ সময় তিনি নোয়াখালীর সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন।

বড়ভাই ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে কাদের মির্জা বলেন, ‘নোয়াখালীতে টেন্ডারবাজি, চাকরি বাণিজ্য, প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে লুটপাট করছে। কেউ কি দেখার নেই? ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনি কী হতে চান? আপনি আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি, আপনার এলাকার ত্যাগী কর্মীরা আজকে ঘরে শুতে পারে না। তাদের গুলি খেতে হয়। তারা হাসপাতালের বেড়ে শুয়ে কাতরাচ্ছে। আপনি সেখানে বসে কী করছেন? চুপ করে সেখানে বসে থেকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কী করবেন আপনি-আমাকে জেলে দেবেন? সেটার অভ্যাস আমার আছে। বরং আপনার থেকে বেশি জেল খেটেছি আমি। মেরে ফেলবেন? আপনার সাথে কবরের জায়গাও দেখিয়ে দিয়েছি।’

কাদের মির্জা বলেন, ‘আপনি আমাদের নেতা, আমার রাজনৈতিক আদর্শ। আপনাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আগামী শনিবারের পর থেকে আর এই শ্রদ্ধাও থাকবে না। স্পষ্ট ভাষায় বলবো- কী দেখাতে চান, কী বুঝাতে চান। দুশ্চরিত্রদের আপনি আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এদের পতন হওয়া পর্যন্ত আমার আন্দোলন চলবে।’

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী বাবুল, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, চরপার্বতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম তানভীর প্রমূখ।

প্রসঙ্গত, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর একটি বক্তব্যের প্রতিবাদে রবিবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অর্ধদিবস হরতালের ঘোষণা দিয়েছিলেন কাদের মির্জা। তবে শনিবার সকালে ডাকা এই কর্মসূচি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে প্রত্যাহার করেন তিনি। জানান ঘোষিত ওই হরতাল ওবায়দুল কাদেরের আশ্বাসে প্রত্যাহার করেছেন।