ব্রেকিং নিউজ
Home / খবর / সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েছে আইন শিথিল করায় : কাঞ্চন

সড়কে দুর্ঘটনা বেড়েছে আইন শিথিল করায় : কাঞ্চন

নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রণীত নতুন সড়ক পরিবহন আইন শিথিল করায় দুর্ঘটনা বেড়েছে বলে মনে করছেন ।

আজ শনিবার নিসচার প্রচার সম্পাদক এ কে এম ওবায়দুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, পরিবহন চালকদের অন্যায্য দাবির মুখে নতুন সড়ক পরিবহন আইন শিথিল করায় চালকদের মধ্যে বেপরোয়া মনোভাব তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেসের ব্যাপারে তাদের ছাড় দেওয়ায় আগে সড়কে যত মামলা হতো, যত টাকা জরিমানা হয়েছে, নতুন আইন প্রয়োগ করার পরে মামলা ও জরিমানা কমে গেছে। ফলে সড়কে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। এসব কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনার আরও কিছু কারণ তুলে ধওে হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

এ বছরের শুরু থেকে সড়ক দুর্ঘটনা যে হারে বেড়েছে এতে দেশের মানুষ উদ্বিগ্ন বলে জানান কাঞ্চন।

গত জানুয়ারি থেকে সংঘটিত দুর্ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ট্রাক, কাভার্ভভ্যান, পিকআপ ও ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস বেশি দুর্ঘটনায় পড়ছে। ইদানীং মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

সড়ককে দুর্ঘটনামুক্ত করতে জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ এবং এক্ষেত্রে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতি জোর দিয়ে কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার বিষয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সড়কে মোটরসাইকেলের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু চালকদের যথাযথ পরীক্ষার মাধ্যমে লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে কি না, তারা ঠিকমতো ড্রাইভিং শিখছে কি না এসব বিষয় উপেক্ষিত থাকছে। ফলে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চলছে সড়কে। প্রতিদিন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দেশে গড়ে ৬ থেকে ৭ জন মারা যাচ্ছে। পাশাপাশি ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস দুর্ঘটনাও বেড়েছে।

চালকরা বিশ্রাম ছাড়াই দিন-রাত গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা বাড়ার আরেকটি কারণ। অনেক সময় অতিরিক্ত টাকার আশায় নির্ঘুম অবস্থায় গাড়ি চালাতে হয় চালকদের। সম্প্রতি সিলেটে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে যে মাইক্রোবাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে সেটি ঘটেছে রাত আড়াইটায়। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ায় চালক মাইক্রোবাসটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি।

সড়কে গণপরিহন চলাচলে সরকারের নজরদারি নেই অভিযোগ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিআরটিএর লাইসেন্স ও ফিটনেস দেওয়ার বিষয়টিতে নেই স্বচ্ছতা। এক মাসে আড়াই লাখ গাড়ির ফিটনেস দিয়েছে বিআরটিএ। কীভাবে এত অল্পসময়ে এত বেশি গাড়ির ফিটনেস সনদ দেওয়া যায়!’

এতে ইলিয়াস কাঞ্চন আশঙ্কা করছেন, ‘আনফিট গাড়ি ফিট হিসেবে রাস্তায় চলছে।’

ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আমি মনে করি, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে যারা কাজ করে যেমন বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশ, তাদের মধ্যেও অজ্ঞতা আছে। তাদের দক্ষতা ও আন্তরিকতার ঘাটতি আছে। তাদের মধ্যে দুর্নীতি আছে। এ জায়গা থেকে বেরিয়ে না আসলে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা কখনো কমানো সম্ভব হবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this:
Skip to toolbar