হংকংয়ে এএইচআরসি’র চেয়ারম্যান সহ প্রায় ৫০ জন গ্রেপ্তার

36

এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশনের (এএইচআরসি) চেয়ারম্যান জন ক্লানসিসহ বিপুল সংখ্যক গণতন্ত্রপন্থি এবং রাজনীতিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হংকংয়ে সরকারকে উৎখাত চেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে। বহুল বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই গ্রুপ ২০২০ সালের স্থানীয় নির্বাচনে নিজেদের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইয়ে প্রাইমারি ভোট আয়োজন করেছিলেন। হংকংয়ের নিরাপত্তা বিষয়ক সেক্রেটারি বলেছেন, তাদের এই কর্মকান্ড রাষ্ট্রদ্রোহমূলক। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাস করার পর এই গ্রেপ্তারই সেখানে সবচেয়ে বড় দমনপীড়ন। বুধবার দিনের শুরুতে হংকংয়ে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন শুরু করে পুলিশ। এ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় প্রায় ৫০ জনকে।

এরই মধ্যে আটক অধিকারকর্মী যোশুয়া ওং-এর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে তারা। আইনি প্রতিষ্ঠান হো সে ওয়াই এন্ড পার্টনারস-এর অফিসগুলোতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। তিনটি সংবাদ বিষয়ক আউটলেটকে তাদের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে অ্যাপল ডেইলি এবং স্ট্যান্ড নিউজ ওই প্রাইমারি নির্বাচনে সহ-আয়োজক ছিল। গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের মধ্যে সিভিক পার্টির তিনজন সদস্য রয়েছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির সাত জন রয়েছেন।

ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের ২১ জন বিরোধী দলীয় কাউন্সেলরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাইমারি নির্বাচনের ১৩ জন প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাইমারি নির্বাচনের কৌশলের নেপথ্যে থাকা দু’জন শিক্ষাবিদকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রতিষ্ঠানে ঘেরাও করে সেখান থেকে একজন মানবাধিকার কর্মী ও মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিরোধী দলীয় আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জেমস টো, ল্যাম চিউক তিং, লিস্টার শাম ও বেনি তাই। অন্যদিকে মার্কিন ওই নাগরিকের নাম জন ক্লানসি। তিনি এশিয়াম হিউম্যান রাইটস কমিশনের চেয়ারম্যান।

ডেমোক্রেটিক পার্টি তার ফেসবুক পেইজে বলেছে, বেইজিং গত বছর জুনে যে বিতর্কিত নিরাপত্তা আইন চাপিয়ে দিয়েছে, তার অধীনে এসব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর কয়েক ঘন্টা পরে হংকংয়ের নিরাপত্তা বিষয়ক সেক্রেটারি জন লি নিশ্চিত করেছেন যে, একদল মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হংকংয়ের সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করেছিলেন। সরকার কোন রাষ্ট্রদ্রোহের কর্মকান্ড বরদাশত করবে না। হংকংয়ের লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।