হলমার্ক হোতার নারীসঙ্গ, তদন্ত কমিটি কাশিমপুর কারাগারে

8

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-১ এর বিরুদ্ধে বন্দিদের সাক্ষাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে । করোনাকালীন সময়ে কারাগারে আটক বন্দিদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে কয়েদিদের সাথে সাক্ষাৎ বন্ধ করে কারা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই আদেশ অমান্য করে হলমার্ক কেলেঙ্কারির ঘটনায় আটক কোম্পানিটির মহাব্যবস্থাপক তুষারের সঙ্গে কারাগারের ভেতরে সাক্ষাৎ করেছেন এক নারীসহ তিনজন। তাদের কারাগারের ভেতর সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিয়ে বের হয়ে যান জেল সুপার রত্না রায়।

এই ঘটনায় আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি বলছে, সাক্ষাতের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছে তারা। আর সাক্ষাতের সেই  সিসি টিভি ফুটেজ বাংলা টিভির হাতে। গত ৬ই জানুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার এর পার্ট-১ আটক হলমার্ক কেলেঙ্কারির হোতা তুষারের সাথে তার স্ত্রী রাজকীয়ভাবে সাক্ষাৎ করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ১২টা ৫৬ মিনিটে তুষারের স্ত্রী কারাগারে প্রবেশের পর ১টা ৪ মিনিটে তুষার, স্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে একটি কক্ষে ঢুকে।

১টা ১৫ মিনিটে জেল সুপার কারাগার থেকে বের হয়ে যায়। এরপর তুষার একটি কক্ষে ওই নারীকে নিয়ে প্রায় ঘণ্টা খানিক সময় অতিক্রম করে। তবে এ ঘটনায় কারাগারের জেল সুপারের কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও ডেপুটি জেলার মো. সাকলাইন জানান, জেল সুপারের নির্দেশে তুষারকে তার স্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেয়া হয় বলে জানান ডেপুটি জেলার কাশিমপুর কারাগার পাট-১। আইন অমান্য করে সাক্ষাতের বিষয়টিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন বলে বলছে মানবাধিকার কর্মীরা। সেই সাথে যারা এই কাজটি করেছে তাদের শাস্তির দাবিও জানান। শুধু বন্দিদের সাক্ষাৎ নয়, নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এই কারাগারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সম্পত্তি জেল থেকে ছাড়া পাওয়া এক যুবক জানান কারাগারের ভেতরে মাদক বেচাকেনা সহ চলে নানা অনিয়ম। কারাগারের ভেতরে পচা সবজি ও মাছ সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে গাজীপুর জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এরই মধ্যে তদন্ত কমিটি তদন্ত করে সাক্ষাতের বিষয়টি সত্যতা পেয়েছে বলে জানান গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম।