হামকা রাজু গ্রেপ্তার কিশোর গ্যাং লিডার

40

রাজু বাদশা ওরফে হামকা রাজু (৩২) অবশেষে ধরা পড়েছে চান্দগাঁও এলাকার কিশোর গ্যাং লিডার । গত ৩ নভেম্বর রাত একটার দিকে নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে রাজু ঘরের বাতি নিভিয়ে টয়লেটে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু এতে শেষ রক্ষা হয়নি। টয়লেট থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৭ এর বিশেষ অভিযান টীম। পরবর্তীতে তার দেখানো মতে টেলিভিশন বক্সের পেছন থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ৩ রাউন্ড গুলিসহ একটি ইলেক্ট্রিক শক মেশিন উদ্ধার করা হয়। র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, চান্দগাঁও থানার কসাই পাড়া এলাকার নুরুল আলম মেম্বারের বাড়ির রাজু বাদশা ওরফে হামকা রাজুর বিরুদ্ধে চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ থানায় ৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি হত্যা চেষ্টা মামলা, ১টি চাঁদাবাজি মামলা ও ১টি ছিনতাই মামলা আছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল মাহমুদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সে কিশোর গ্যাং পরিচালনার কথা স্বীকার করেছে। তার গ্যাংয়ে ৮০ থেকে ১০০ জন কিশোর রয়েছে। তাদের দিয়ে সে ইয়াবা ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই করত বলেও স্বীকার করেছে।
সরেজমিনে বহদ্দারহাট ও চান্দগাঁও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, নগর জুড়ে মোটর সাইকেলে চড়ে ভাসমান ছিনতাই চক্রের দলনেতা রাজু বাদশা প্রকাশ হামকা রাজু। দীর্ঘদিন ধরে সে বহদ্দারহাট এলাকায় চাঁদাবাজি, বাড়াইপাড়ায় জুয়ার আসর ও ইয়াবা বিক্রির বিভিন্ন স্পট পরিচালনা করে আসছিল। সমপ্রতি চাঁদার জন্য খাজা রোডে একটি টেক্সি স্ট্যান্ডে হামলা চালায় হামকা রাজু ও তার কিশোর গ্যাং। সেই সময় এক সিএনজি টেক্সি চালককে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয় হামকা রাজু। এর আগেও জমি ও বাড়ি দখল করতে গিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিল তারা। ফিল্মি স্টাইলে কথায় কথায় ফাঁকা গুলি করে আতংক সৃষ্টি করা অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল তাদের।
হামকা রাজু গ্রেপ্তার হলেও এলাকাবাসীর আতংক কাটেনি। কারণ হিসেবে তারা জানান, রাজু তার ঘনিষ্ট সহযোগীদের মাধ্যমে একাধিক উপগ্রুপ গড়ে তুলেছে। তাদের মধ্যে সবুর খুনসহ ৬ মামলার আসামি ইমন বড়ুয়াই শুধু কারাগারে আছে। কিন্তু প্রায় এক ডজন মামলার আসামি লেংড়া রিফাত, মাদক মামলার আসামি রনি সরকার, আরমান হোসেন, হৃদয় বড়ুয়া, ইশতিয়াক আলী ওয়াসিফ, লম্বা অভি, কামরুল হাসান, হামিদ শিকদার, ফ্রুট সোহেল ও তার ভাই রুবেল সক্রিয়। মা ছেলে জোড়া খুনে গ্রেপ্তারকৃত একমাত্র আসামি মো. ফারুক রাজুর চাচাতো ভাই।