হিজবুত তাওহিদ-গ্রামবাসী সংঘর্ষ: শিবির সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ

1

images

এলার্ট নিউজ প্রতিনিধি নোয়াখালী : এছাড়া আটক ১১৬ জনের মধ্যে ১১১ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ এলার্ট নিউজ প্রতিনিধিকে জানান, সোমবার হিজবুত তাওহিদ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের সময় আটক ১১৬ জনের মধ্যে ১১১ জনকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

“এছাড়া গুরুতর আহত তিনজনকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং দুই শিশুকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

সোমবার সোনাইমুড়ী উপজেলার পোরকরা গ্রামের এ ঘটনায় দুইজনকে হত্যাসহ দুটি বাড়ি ও কমপক্ষে পাঁচটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আহত হয় পুলিশসহ শতাধিক।
হামলার পরিকল্পনাকারী, মদতদাতা ও প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণকারীদের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে তাদের বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, উত্তেজিত জনতার আড়ালে দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে কোনো বিশেষ দলের লোকজন এই তাণ্ডবের সাথে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
“ঘটনার সাথে জামায়াত-শিবির ও হেফাজতে ইসলামের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ঘটনার সময় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকাও বিচার-বিশ্লেষণ করে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পোরকরা গ্রামে বায়েজিদ খান পন্নির অনুসারী হিজবুত তাওহিদকর্মী স্থানীয় নুরুল হক মেম্বার ও তার ছেলে সেলিম এলাকায় ‘মসজিদ’ নির্মাণ শুরু করলে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে গুজব ছড়ায় যে এখানে ‘বিধর্মীয় কর্মকাণ্ড’ চালানো হবে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার হিজবুত তাওহিদ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে শুরু হয় ত্রিমুখী সংঘর্ষ।
সংঘর্ষের পিছনে জামায়াত-শিবির ও হেফাজতে ইসলামের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন হিজবুত তাওহিদের চট্টগ্রাম জেলা আমির নজরুল এসলাম সবুজ, যিনি সোমবার সকালে চট্টগ্রাম থেকে পোরকরায় এসেছেন বলে জানান।
তিনি

এলার্ট নিউজ প্রতিনিধিকে বলেন, “আমরা কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন করছি না। আমরা কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আসে এমন কোনো কাজ করি না। তবু জামায়াত-শিবির ও হেফাজতে ইসলামের লোকজন সহজ-সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং আমাদের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়।”

মঙ্গলবার সরজমিনে দেখা গেছে, পোরকরাসহ আশপাশের এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নোয়াখালী-২ (সোনাইমুড়ী-চাটখিল) আসনের সংসদ সদস্য এইচএম ইব্রাহিম।
এ সময় তিনি চাষিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
“যদি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন ইসলাম ও মহানবীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে বা উস্কানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে থাকে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি এলাকাবাসীকে শান্ত থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমিনুল ইসলাম বাকের, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা খাতুন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক কামাল, সোনাইমুড়ী পৌর মেয়র মোতাহের হোসেন মানিক প্রমুখ।