হোয়াইট হাউস বলছে :ট্রাম্পের শেষ দিন , তিনি সকাল-সন্ধ্যা কাজ করবেন

35

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত জো বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠিত হবে । সুতরাং, বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ডনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হচ্ছে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার। স্বাভাবিকভাবেই সবার জানার আগ্রহ বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশটির সবচেয়ে ‘উদ্ভট’ প্রেসিডেন্টের শেষ দিনটি কিভাবে কাটবে।

বিজনেস ইনসাইডার জানিয়েছে, ট্রাম্প জনগণের কাছ থেকে লুকিয়ে থেকে তার অফিসে শেষ পূর্ণ দিবস শুরু করেছেন। নিজের প্রেসিডেন্ট থাকার মেয়াদের শেষ দিনগুলোতে জনজীবন থেকে তিনি একপ্রকার উধাও হয়ে গিয়েছিলেন। ৬ জানুয়ারি তার উস্কানিতে উগ্র সমর্থকরা ক্যাপিটলে হামলা করার পর তাকে আর জনসম্মুখে দেখা যায় নি।

সিএনএন ট্রাম্পের সহযোগীদের বরাতে জানিয়েছে তাকে হোয়াইট হাউসে রাগান্বিত দেখা গেছে এবং তিনি নিজেকে অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন। ক্যাপিটলের হামলা নিয়ে লিখিত মন্তব্যের বাইরে মুখ ফস্কে কিছু বলা থেকে তাকে বিরত রাখতে মিডিয়ায় তার উপস্থিতি সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। হামলার আগে এবং হামলার পরে ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তার নিজ দল এবং মন্ত্রীসভার অনেকেও তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। অগুণিত শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগ তাকে হোয়াইট হাউসে কার্যত ‘একা’ করে দিয়েছিল।

শুধু তাই নয়, জনমত জরিপেও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিদায় নিচ্ছেন ট্রাম্প।

সোমবার গ্যালাপের প্রকাশিত জরিপের ফলে দেখা যায় প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের গড় এপ্রোভাল রেটিং ৪১%। গ্যালাপের চালানো জরিপ করা যে কোন প্রেসিডেন্টের চেয়ে যা ৪ শতাংশ কম।

এদিকে, নিজের প্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার এবং ফেসবুকে তার একাউন্ট মুছে দেয়া হলেও ট্রাম্প অন্য কোন প্ল্যাটফর্মে যোগ দেন নি। যদিও প্রথমদিকে বলা হচ্ছিল, তিনি বিকল্প প্ল্যাটফর্মে যোগ দেবেন।

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির অফিস থেকে ট্রাম্পের ১৯ জানুয়ারির আনুষ্ঠানিক সূচী সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ

‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প খুব সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি কাজ করবেন। তিনি অনেক জায়গায় ফোন করবেন এবং অনেক বৈঠকে অংশ নেবেন।’

সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বুধবার হোয়াইট হাউস ত্যাগ করার আগে ট্রাম্প কি করেন তা দেখতে। গার্ডিয়ানের এক রিপোর্টে বলা হয়েছেঃ

‘অনেকে বলছেন, ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রয়োগ করে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন। ট্রাম্প হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে আসার পর মামলা মোকদ্দমা এড়ানোর জন্য নিজেকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বিবেচনা করেছেন বলেও জানা গেছে। তবে আদালত এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।’