১০ হাজার টাকায় বিক্রি ২২ টাকার ওমানি মুদ্রার লোভ দেখিয়ে

30

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানার কদমতলী এলাকায় অভিনব কায়দায় প্রতারণার ঘটনায় চক্রের দলনেতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে । গতকাল শনিবার বিকেলে ডিএমপি উত্তরা পশ্চিম থানার খালপাড়স্থ সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস অফিসের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন প্রতারক চক্রের দলনেতা মো. আল আমিন (৩৫) ও তার সহযোগী মো. শাহজাহান সিরাজ (৪৬)।

পিবিআই জানায়, গত ২৩ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে মো. লুৎফর রহমান নামের এক ভুক্তভোগী বাইরে তার বড় ভাই ব্যাংক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন৷ এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তার কাছ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে ফিরছিলেন। এ সময় পথে কদমতলী চৌরাস্তার পূর্ব পাশে জাহিদ মার্কেটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা একটি সিএনজি’র চালক তাকে স্যার বলে সম্বোধন করে ডাক দেন। তিনি সেই সিএনজি’র কাছে গেলে চালক তাকে কয়েকটি বিদেশি মুদ্রার নোট দেখিয়ে কোথায় একচেঞ্জ করা যাবে জানতে চান। তখন লুৎফর রহমান সেই সিএনজিচালককে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভাঙ্গানো যায় বলে জানালে চালক তাকে ২০-২৫টি বিদেশি কারেন্সি দেখান এবং ভাঙ্গানো হলে কত টাকা পাওয়া যাবে জানতে চান। তখন সিএনজির কাছে অজ্ঞাত আরও দুজন ব্যক্তি আসে এবং লুৎফর রহমানের পাশে দাঁড়ায়। তাদের একজন ব্যাংকে চাকরি করেন এবং অপরজন মানি এক্সচেঞ্জে চাকরি করে বলে জানান।

তারা জানান, বিদেশি টাকাগুলো অনেক দামি এবং ওমানী কারেন্সি নোট। মানি এক্সচেঞ্জের দোকানে ভাঙ্গালে অনেক টাকা পাওয়া যাবে। তাদের একজন তখন লুৎফর রহমানকে দেখিয়ে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে সিএনজিচালকের কাছ থেকে চারটি নোট কিনে নেন এবং লুৎফর রহমানকে ওই নোটগুলো কেনার জন্য প্রলুব্ধ করেন।
সিএনজিচালকের কাছে আরও ২০-২২টি নোট রয়েছে বলে জানান। এ ছাড়া এই নোটগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রতিটি ২২ হাজার টাকা বলে জানালে তাদের কথায় বিশ্বাস করে লুৎফর রহমান সিএনজিচালককে নগদ দুই লাখ টাকা দিয়ে ২০টি ওমানী কারেন্সি নোট নেন। পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে লুৎফর রহমান গত ২৭ আগস্ট কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি পিবিআই’র সিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই ঢাকা জেলা ইউনিটে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মো. আনোয়ার হোসেন মামলাটি তদন্ত করেন। এরপরই গ্রেপ্তার করা হয় দুই আসামিকে।

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, তারা দীর্ঘ দিন ধরে তাদের আরও সহযোগীকে নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক টাকার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে অভিনব কায়দায় এভাবে প্রতারণা করে আসছে। তারা লুৎফর রহমানের সঙ্গে প্রতারণা করে তার নিকট থেকে নগদ ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল বলে স্বীকার করেছে।

এ বিষয়ে পিবিআই হেডকোয়ার্টারে আজ রোববার সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার এসপি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, আসামি আল আমিন এই সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দলনেতা। তারা দীর্ঘ দিন ধরেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘবদ্ধভাবে অভিনব কায়দায় বিভিন্ন ব্যাংকে গিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনকারীদেরকে পর্যবেক্ষণে রাখে। পরে তাদের পিছু নেয় এবং সুকৌশলে তাদের শিকারকে বিভিন্ন দেশের কারেন্সি নোট প্রদর্শন করে অধিক লাভের প্রলোভন দেখায়। সহজ-সরল মানুষকে খুব সহজেই শিকারে পরিণত করে তার কাছ থেকে সমস্ত টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়।