এখন এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মাঝে ‘রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?’ প্রায় ১০০ বছর আগে কবি ফররুখ আহমদের উৎকণ্ঠাই যেন । বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাটি কবে শুরু হবে, নতুন করে কেমন রুটিন হবে এ নিয়ে চলছে তাদের উদ্বেগ।

পরীক্ষা শেষেই রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও। ফলে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত অভিভাবকরা।

করোনা ভাইরাসের উৎকণ্ঠার এই অমোঘ রাত যেন কাটছেই না পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

তবে পরিস্থিতি যেমনই হোক, পরীক্ষার্থীবান্ধব পরিকল্পনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পরীক্ষা শুরুর আগে অন্তত ১২ থেকে ১৪ দিন প্রস্তুতির সুযোগ থাকবে পরীক্ষার নতুন সূচিতে। পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল এবং ভর্তি পরীক্ষা প্রস্তুতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বছরের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে কৌশলী পরিকল্পনা চলছে।

আগামী ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে প্রথমে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে তা ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ফলে এইচএসসি পরীক্ষাও স্থগিত হয়ে যায়। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে জানানো হবে পরীক্ষার নতুন সময়সূচি।

পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণার পর উৎকণ্ঠার চার দিন পার করল আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার পরীক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ। সে ঢাকাটাইমসকে বলল, ‘প্রতিটা দিনই অপেক্ষায় কাটছে। পরিস্থিতি আদৌ ঠিক হবে কি না, নতুন করে কেমন প্রস্তুতি নেব, কী ধরনের রুটিন হবে- সব মিলিয়েই চিন্তা হচ্ছে।’

তার মতোই আর সব পরীকআষার্থীর চিন্তাও একই বলে জানায় ফাহাদ। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে নতুন ঘোষণায় কী অপেক্ষা করছে সেটা নিয়েও চিন্তিত পরীক্ষার্থীরা।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষার্থীবান্ধব সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন। তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস আমাদের ভোগাচ্ছে এটা সত্য। তবে আমরা প্রকৃতির দিকেই তাকিয়ে আছি এমন নয়। তাই ঘোষণা দিয়ে পরের দিনই পরীক্ষায় বসিয়ে দিব না। পরীক্ষার আগে ১২ থেকে ১৪ দিন সময় দেয়া হবে।’

শুধু এইচএসসি পরীক্ষাই নয়, এর পরের বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও রয়েছে উৎকণ্ঠা। কারণ পরীক্ষা শেষের প্রস্তুতির সময়টা খুব অল্প। উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থী জুবায়ের বিন মতিনকেও ভাবাচ্ছে বিষয়গুলো। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জুবায়ের ঢাকাটাইমসকে বলল, ‘সামনে দুটো পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। একটা ফলাফলের, অন্যটা জীবনের দিক-নির্দেশনার। আর পরীক্ষার ফলাফল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি দুটো একসাথে সম্পর্কিত। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ না হলেও যথাযথ প্রস্তুতি থাকলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো বিষয় পাওয়ার সুযোগ থাকে্’

বর্তমান পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, আর তাতে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় কতটুকু পাওয়া যাবে- এ নিয়ে উৎকণ্ঠিত অবিভাবক-পরীক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, জীবন থেকেই না একটা বছর হারিয়ে যায়!

শায়লা রহমানের প্রথম সন্তান এইচএসসি পরীক্ষা দেবে। কিন্তু সারা বিশ্বের প্রতিদিনের করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি দেখে ভীষণ উদ্বিগ্ন তিনি। ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে যেভাবে লকডাউন করা হচ্ছে, মনে তো হয় না ওরা এ বছর ভর্তি-পরীক্ষা দিতে পারবে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, পড়াশোনার কী হবে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।’

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির আগ পর্যন্ত প্রস্তুতির এবং বছর হারানোর আশঙ্কা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার প্রস্তুতি দুটো বিষয়ই আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে। আমরা বিকল্প কিছু এক্সামিনও করে রেখেছি। কিন্তু এখনই আমরা বলতে চাচ্ছি না যে কোন দিকে যাচ্ছি।’

তবে শিক্ষার্থীদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বছর যাতে বাদ না পড়ে অর্থাৎ পরীক্ষা , ফলাফল ও ভর্তি পরীক্ষা প্রস্তুতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বছরের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয় নিয়েও তাদের লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান সচিব।

সচিব বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা হলো, বন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের যে সময়টা নষ্ট হয়েছে সেটি থেকে তার জীবনে যেন কোনোভাবে প্রভাব না পড়ে সেজন্য কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সেই সিদ্ধান্তগুলো এখন থেকেই প্রস্তুত রাখছি।’

পরীক্ষা, ফলাফল, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রথম বছর সবকিছুর মধ্যে একটা সমন্বযয়ের পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন না হয়ে মনোবল ধরে রাখুক। সবাই মিলে পরিস্থিতিটা সামলে নেব।’

Share Now
October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031