৩৬তম স্প্যানে দৃশ্যমান পদ্মা সেতুর ৫৪০০ মিটার

52

পদ্মা সেতুর ৩৬তম স্প্যান দুই দিনের প্রচেষ্টায় শুক্রবার সকালে বসানো হলো। মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে ২ ও ৩ নং পিয়ারে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে স্প্যানটি বসানোর মধ্যে দিয়ে দৃশ্যমান হলো সেতুর ৫ হাজার ৪০০ মিটার অংশ।

পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তিনি জানান, সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে স্প্যানটি বাসানোর কর্মযজ্ঞ শেষ হয়।

সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্চলতি মাসে মোট চারটি স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা আছে তাদের। গত মাসেও চারটি স্প্যান বসানো হয়েছিল, যা প্রকৌশলীদের বড় একটি সাফল্য এবং দেশবাসীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথকে সুগম করেছে।

সেতু সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৩৬ স্প্যানসহ সেতুতে বাকি থাকা সাতটি স্প্যান মাওয়া প্রান্তে বসানো হবে। ইতিমধ্যেই জাজিরা প্রান্তে সবকটি স্প্যান বসানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। আজ ৩৬তম স্প্যানটি বসে গেলে আগামী ১১ নভেম্বর ৯ ও ১০ নং পিয়ারে ৩৭ তম স্প্যান ‘২-সি’, ১৬ নভেম্বর ১ ও ২নং পিয়ারে ৩৮ তম স্প্যান ‘১-এ’, ২৩ নভেম্বর ১০ ও ১১ নং পিয়ারে ৩৯ তম স্প্যান ‘২-ডি’, ২ ডিসেম্বর ১১ ও ১২ নং পিয়ারে ৪০ তম স্প্যান ‘২-ই’ও ১০ ডিসেম্বর ১২ ও ১৩ নম্বর পিয়ারে ৪১তম স্প্যান ‘২-এফ’ বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া সেতুর ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ১১২৪-এর বেশি রোড স্ল্যাব বসানো হয়েছে। আর ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে এখন পর্যন্ত বসানো হয়েছে ১৬২৪-এর বেশি হাজার ৬০টির বেশি।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দ্বিতল পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো। মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর আগামী ২০২১ সালেই খুলে দেয়া হবে।