Home / প্রশাসন / ৬৭৭ জন আক্রান্ত করোনায় পুলিশে

৬৭৭ জন আক্রান্ত করোনায় পুলিশে

পুলিশ বাহিনীতে দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে করোনাভাইরাসের সম্মুখযুদ্ধে থাকা। আক্রান্তদের মধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন এমন সংখ্যাই বেশি। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত সারাদেশে পুলিশের ৬৭৭ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এমন তথ্যই মিলেছে পুলিশের একটি সূত্রে।

আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেক ঢাকা মহানগরীতে। ঢাকায় ৩২৮ জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে নারী পুলিশ এবং পুলিশে কাজ করা সাধারণ কর্মচারীও আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডিএমপিতে ৬৮ জন শনাক্ত হয়েছেন।

সারাদেশে এক হাজার ২২৫ জন পুলিশ সদস্যকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্রে জানা গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশজুড়ে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত ও লকডাউন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। এ ছাড়া রাস্তায় জীবাণুনাশক ছিটানো, শ্রমজীবী মানুষকে সহায়তা করা, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়াসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা। এসব কাজ করতে গিয়ে নিজের অজান্তেই তারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, সারা দেশের মধ্যে ঢাকা মহানগরীতে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৭৪ জন। আর চিকিৎসায় সুস্থ হয়েছেন ৫৫ পুলিশ সদস্য। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চারজন। যাদের সবাই ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এরমধ্যে রয়েছে- একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই), একজন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) এবং দুইজন কনস্টেবল।

পুলিশে প্রথম দিকে সুরক্ষা সরঞ্জাম কম থাকলেও সেটা বর্তমানে বাড়ানো হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে এই ভাইরাস দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ার কারণ, তারা দিনের কাজ শেষ করে এসে গাদাগাদি করে ব্যারাকের মেসে থাকছেন। আর সেখানে তাদের লক্ষণ-উপসর্গ প্রকাশ পেতে সময় লাগছে, তবে এরইমধ্যে একজন থেকে তা ছড়িয়ে পড়ছে পাশে থাকা অন্যদের মধ্যেও।

পুলিশ সদরদপ্তর ও বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করে এমন পুলিশ সদস্যদের ‘ব্যাপক হারে’ প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে ডিউটির আগে প্রতিদিন মাঠপর্যায়ের সদস্যদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ দূরত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে বলা হচ্ছে। এছাড়া পুলিশ সদস্যদের ব্যারাকেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাড়তি সদস্যদের আবাসনের জন্য স্থানীয় হোটেল, মোটেল কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু তারপরও আক্রান্ত ঠেকানো যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this: