ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা বাবার সঙ্গে শিক্ষকের অসদাচারণের প্রতিক্রিয়ায় অরিত্রির আত্মহননকে মেনে নিতে পারছেনা । সকালে ক্লাসে যোগ না দিয়ে তারা বিক্ষোভ করেছে। শিক্ষার্থীদের এই প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছেন অভিভাবকরাও। আর তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান। বরখাস্ত হয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষক।

ঘটনাস্থলে ছুটে আসা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকেও ঘিরে ধরে ছাত্রীরা জানিয়েছেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি। মন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও ব্যথিত হয়েছেন। বলেছেন, ‘একজন শিক্ষার্থী কতটা অপমানিত হলে, কতটা কষ্ট পেলে আত্মহত্যার মতো পথ বেছে নেয়… যে ঘটনাগুলো আমরা শুনেছি, এর পেছনের কথা শুনছি। ঘটনার পেছনে বা ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্ত্রীর কথামতোই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্তে আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শিক্ষকের অসদাচারণে অপমানিত হয়ে সোমবার বিকেলে নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি অধিকারী শান্তিনগরে নিজ বাসায় আত্মহত্যা করে। পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ফোন পাওয়ায় তার বাবাকে ডেকে আনেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। অরিত্রির বাবা মেয়ের হয়ে মার্জনা চাইলেও তাকে অপমান করা হয়। বাবার এই অপমানের যন্ত্রণা সইতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় অরিত্রি।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিক্ষোভের মুখে সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ক্যাম্পাসে আসেন আসার পর শিক্ষামন্ত্রী প্রথমে স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর ক্যাম্পাস চত্বরে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা ঘিরে ধরে তাকে। জানানো হয় বিচারের দাবি।

এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। বলেন, ‘এ বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টের। সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য সোমবার রাতেই মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।

কী ঘটেছে, কেন ঘটেছে এবং ঘটনার সঙ্গে কারা দায়ী এবং করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করে কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’
‘সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং পুলিশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে সবার সাথে সমন্বয় করে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা অনাকাঙ্খিত এবং কষ্টদায়ক। কতটা কষ্ট পেলে, নিজের জীবন দিতে পারে- শিক্ষার্থীর আতœহত্যার ঘটনায় সেটাই উঠে এসেছে। বিষয়টি খুবই গুরুতর। এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ক্ষমা চাইলেন স্কুল প্রধান, অভিযুক্ত শিক্ষক বরখাস্ত

শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আন্দোলনের মধ্যে ক্ষমা চেয়েছেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস। এ খবর জানিয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে

প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান আশরাফ তালুকদার বলেন, ‘প্রভাতী শাখার প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আরাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত জিন্নাত আরাকে স্কুলের সব ধরনের কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা সবাই মর্মাহত। যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। আগামী তিন দিনের মধ্যে ওই কমিটিকে প্রতিবেদনে দিতে বলা হয়েছে।

‘যে শিক্ষক তাকে ভর্ৎসনা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বা যিনি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে, তদন্তে যদি এর প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে স্কুল কর্তৃপক্ষ।’

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728