ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ইউরোপীয় দেশগুলোকে তেহরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ প্রতিহত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতায় ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানকে যেসব অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেগুলিও তাদেরকে রক্ষা করতে হবে।
সোমবার সন্ধ্যায় তেহরান সফররত জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাসের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান প্রেসিডেন্ট রুহানি। তিনি বলেন, আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এটির ৩৬ নম্বর ধারা অনুসরণ করে ইরানও এ সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যেতে পারত। কিন্তু পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী বাকি দেশগুলোকে সুযোগ দিতে ইরান ধৈর্যধারণ করেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তার দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সন্ত্রাস শুরু করেছে। তবে যারা ইরানি জনগণের খাদ্য ও ওষুধ সামগ্রী আটকে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হাসান রুহানি বলেন, এক বছরেরও বেশি সময় আগে থেকে আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করেছে তাতে কারো লাভ হবে না। তবে ইরানি জনগণ এই এক বছরে প্রমাণ করেছে তারা চাপ ও বলপ্রয়োগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।ইরানি জনগণের ওপর চাপ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জার্মানিসহ ইউরোপীয় দেশগুলো এ উত্তেজনা কমাতে চায় এবং এক্ষেত্রে তারা সব রকম প্রচেষ্টা চালাবে।
ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় তিনি আমেরিকার সমালোচনা করে বলেন, তার দেশ এ সমঝোতা রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর এবং এজন্য অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছে জার্মানি।
