ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে ফেসবুক লাইভে এসে দুই জন ছাত্রকে হত্যা ও একজনের চোখ উপড়ে ফেলার গুজব ছড়ানো অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ নিরাপত্তা হেফাজতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

সোমবার দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশ এই অভিনেত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে আসে বলে হাসপাতালের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। পরে চিকিৎসা শেষে তাকে আবার নিয়ে যাওয়া হয়।

ঢাকা মেডিকেলের একজন কর্মী জানান, বিকাল পৌনে চারটার দিকে নওশাবাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি ডায়রিয়া, মাথা ব্যাথা ও পায়ের ব্যাথায় ভুগছিলেন। চিকিৎসা শেষে বিকাল সাড়ে চারটার সময় তাকে আবার নিয়ে যাওয়া হয়।

ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা এই অভিনেত্রীর এমআরআই করতে দিয়েছেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। আর এই পরীক্ষা শেষে রিপোর্ট নিয়ে তাকে আবার আসতে বলা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ৪ আগস্ট নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে নওশাবা ফেসবুক লাইভে এসে উদ্ভ্রান্তের মতো বলতে থাকেন, দুই জনকে মেরে ফেলা হয়েছে। একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে। তিনি এমনভাবে বলছিলেন যেন তিনি পুরো ঘটনাটি সরাসরি দেখছেন।

অথচ এই অভিনেত্রী তখন ছিলেন উত্তরায়, আর তিনি বলছিলেন জিগাতলার কথা। পরে সেই রাতেই র‌্যাব আটক করে এই অভিনেত্রীকে।

আটকের আগেই নওশাবা ফেসবুক লাইভে এসে তার কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। বলেন, তার আমার কাছে একটি ফোন এসেছিল এবং যে আমাকে ফোন করেছিল। তার কথায় বিভ্রান্ত হয়ে তৎক্ষণাৎ লাইভে যান।

নওশাবা বলেন, ‘ও আমাকে (যে ফোন করেছিল) বলে যে ঘটনাটি জিগাতলায় হচ্ছে। আমি সে সময় উত্তরাতে ছিলাম। আমি ভুল তথ্য দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে ইনস্ট্যান্টলি লাইভে আসি এবং আমি বলি যে এরকম হচ্ছে।’

‘পরবর্তীতে আমি জানতে পারি যে, আমাকে যে তথ্যগুলো দেয়া হয়েছিলো সেগুলোর একটিও সত্যি না। অ্যান্ড আই অ্যাম ইউজড (এবং আমাকে ব্যবহার করা হয়েছে)।’

পরে র‌্যাবকে নওশাবা জানান, রুদ্র নামে একটি ছেলের কথা শুনে তিনি ওই লাইভে দিয়েছেন। ৩ আগস্ট শাহবাগে ছাত্রদের অবস্থানে গিয়ে তার সঙ্গে পরিচয়।

৫ আগস্ট আদালতে হাজির করে নওশাবাকে চারদিনের জন্য রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরে ১০ আগস্ট তাকে আরও দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। সেই রিমান্ড শেষ হয়েছে রবিবার।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031