সমপ্রতি সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দেয়ার পর এ পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। অস্ট্রেলিয়ার বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। এর অধীনে বিমানবন্দরে কর্মরত কর্মীদের উপরে নিরাপত্তা নজরদারি বাড়ানো হবে। কর্মরত কর্মকর্তাদের সকল কর্মকাণ্ড অনুসন্ধান করে দেখা হবে নিয়মিত। তল্লাশি চালানো হবে বিমানবন্দরে প্রবেশ করা ও ভিতরে থাকা কর্মীদের। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। দেশটির অবকাঠামো এবং গণপরিবহনমন্ত্রী ড্যারেন চেস্টার বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে বিমানবন্দরের কর্মীদের সনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরো নিরাপদ হবে।
বিমানবন্দরে নিরাপত্তায় অংশগ্রহণের আগে কর্মীদের পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ হয়েছে কিনা তাও যাচাই করে দেখা হবে। গত জুলাইয়ে পুলিশ সিডনি বিমানবন্দরে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে কথিত ইসলামপন্থিদের এক সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা প্রচেষ্টা বানচাল করে দেয়। এর পর থেকেই বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এ ঘটনায় শহরে অভিযান চালিয়ে চারজন কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগে বিস্ফোরণের কাজে ব্যবহার হয় এমন যন্ত্র নিয়ে বিমানে ওঠার চেষ্টা করার অভিযোগ ছিলো। সে সময় ওই ব্যক্তির লাগেজের নির্ধারিত ওজন অতিক্রম হয়ে যাওয়ার কারণে যন্ত্রটি নেয়ার অনুমতি দেয় নি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এর পর থেকে বিমানবন্দরে যাত্রীদের হাতে বহন করা ব্যাগ এবং লাগেজের নিরাপত্তা অনুসন্ধান বাড়িয়ে দেয়া হয়। অতিরিক্ত এই নিরাপত্তার ফলে অনেক সময় বিমানযাত্রায় বিলম্ব হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার গভর্মেন্ট কাউন্সিল সন্ত্রাসীদের চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়াকে আরো ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ফেডারেল পুলিশের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এ সপ্তাহে স্বাক্ষরিত ওই চুক্তির ফলে পুলিশ চেহারা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় কেন্দ্রিয় পাসপোর্ট, ভিসা, এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের সার্ভারে ছবির ভিত্তিতে তথ্য উপাত্ত অনুসন্ধান করতে পারবে। এ চুক্তিকে অনাহূত নজরদারি বলে মত দিয়েছে সে দেশের কিছু সংস্থা। তবে এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল বলেন, নিরাপত্তা জোরদারের স্বার্থে চুক্তিটি একটি যৌক্তিক পদক্ষেপ। কবে থেকে এই নতুন প্রক্রিয়া কার্যকর করা হবে তা জানতে চাওয়া হলে দেশটির অবকাঠামো বিষয়ক মন্ত্রী নির্দিষ্ট দিনক্ষণ সম্পর্কে কিছু জানান নি।
