৩ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুরে উক্ত অস্থায়ী ক্যাম্প সরেজমিন পরির্দশনে গেলে তিনি এ কথা বলেন। শুধু ছাবের আহমদ নয়, মিয়ানমারের অনেক প্রতাপশালী পরিবারের সদস্যরাও মিয়ানমার সরকারী বাহিনীর অত্যাচারের মুখে তাদের সহায় সম্পত্তি ফেলে দেশ ত্যাগ করে অনেকটা এক কাপড়ে এসে এ অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছে।

“অবাজি আরাত্তুন এডে হাদ্য নাই, নাই দাবাইপত্র, থাকিবার হন জিনিষপত্র। এন অবস্থাত অনেক হষ্টর মধ্যে আরাঁ আছি। আরা মানুষত্তুন সাহায্য চাই”। অবাজি আমাদের এখানে খাদ্য নেই, নইে ঔষুধপত্র, থাকবার কোন জিনিষপত্রও নেই। এমন অবস্থায় আমরা অনেক কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছি। আমরা আপনাদের (মানুষের) সহযোগিতা চাই। মিয়ানমারে সরকারী বাহিনীর ব্যাপক নিযর্যাতন নীপিড়নের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সাপমারা ঝিরি এলাকার জিরো পয়েন্টে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ও এক সময়কার মিয়ানমার বুছিডংস্থ একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছাবের আহমদ। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এ ক্যাম্প যা মানুষ আছে তাদের খাওয়ানোর সামর্থ আমার ছিল। কিন্তু আমি সব কিছু ফেলে এক কাপড়ে চলে এসেছি।

রোববার দুপুরে সরেজমিন পরির্দশনকালে দেখা যায়, উক্ত জিরো পয়েন্টে গত এক সপ্তাহ থেকেই রোহিঙ্গা নারী পুরুষরা দলে দলে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে তারা অস্থায়ী ভিত্তিতে প্লাস্টিকের কাগজ (চিনা কাগজ) দিয়ে তাবু তৈরী করে সেখানে অনেকটা গাদা গাদি করে বসবাস করছে। বসবাসকারীদের মধ্যে শিশুর সংখ্য তুলনামূলক বেশি। বেশির ভাগ শিশুর শরিরে কোন কাপড়চোপড় নেই। বৃষ্টির মধ্যে কাপড় ছাড়া থাকার কারনে তাদের অনেকেই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এখানে থাকা অন্তত ৩শ পরিবারের মধ্যে অন্তত ১শ পরিবারের সদস্যরা গত দুই দিনেও কিছু খেতে পারেনি। তবে রোববার বেশ কিছু সংগঠনের পক্ষ থেকে এসব রোহিঙ্গাদের জন্য খাবার, ঔষুধ, কাপড়চোপড় ও নগদ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে যাওয়া বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস (বিএইচআরএফ)এর চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি এডভোকেট এএম জিয়া হাবিব আহসান, ডাক্তার নুরুল আমিন, মানবাধিকার কর্মী মোহাম্মদ এরশাদ, আলহাজ আজিজুল হক ও জিয়াউল হকের নেতৃত্বে রোহিঙ্গাদের নগদ টাকা ও কাপড়চোপড় বিতরণ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এডভোকেট এএম জিয়া হাবিব আহসান বলেন, মিয়ানমার সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর নির্যাতনে অতিষ্ট হয়ে আরাকানের বাসিন্দারা (মুসলিম-হিন্দু) সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে এবং অনেক অস্থায়ী ক্যাম্পে তাদের অনেকটা মানবেতর কালযাপনের সংবাদ পেয়ে ত্রান সামগ্রী নিয়ে এসেছি। এখানে আসলে অনেক ত্রানের প্রয়োজন, বিশেষ করে ঔষুধ, তাবু টাঙ্গানোর জন্য ত্রিপল ও খাদ্য সামগ্রী দরকার বলে যোগ করেন তিনি। নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারে নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে। এখানে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরী হয়েছে জিরো পয়েন্টে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্তক অবস্থায় রয়েছে যেন কোন রোহিঙ্গা সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে। তবে বিজিবির চোখ ফাকি দিয়ে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের কথা স্বীকার করেন তিনি।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031