আন্দোলনরত ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের হামলায় অন্তত ৪ ছাত্রী  আহত হয়েছেন রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) বহিরাগতসহ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উৎপাত ও নিরাপত্তার দাবিতে । আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে আইএইচটি’র ছাত্রীরা অধ্যক্ষের কাছে বিভিন্ন দাবি ও প্রতিবাদ তুলে ধরেন। পরে অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে ফেরার পথে ছাত্রীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হন। এই ঘটনার জেরে ইনস্টিটিউট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দুপুর ১টার মধ্যে ছাত্রদের এবং ৩টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
আহতরা ছাত্রীরা হলেন- প্রথমবর্ষের ছাত্রী মোহনা, ফার্মেসী বিভাগের ছাত্রী জতি, একই বিভাগের ছাত্রী নাবীলা ও তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী মীম। পরবর্তীতে পুলিশ সেখানে পৌঁছে।
সূত্র জানায়, রাজশাহী ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি’র (আইএইচটি) ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মাঝেমাঝেই ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় কথা বলতো।

ছাত্রীদের বাবা মা তুলে কথা বলতো। তাদের কথা না শুনলে ছাত্রীদেরকে গণধর্ষণের হুমকিও দিতো। আবার হোস্টেলের ভেতরে ঢুকে গাছের ফল পাড়তো। যদিও হোস্টেলের ভেতর ছেলের প্রবেশের অনুমতি নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গত ৩ ডিসেম্বর আবারও ছাত্রীদর প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকি দেয়। এ নিয়ে বুধবার সকাল থেকে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে আইএইচটি’র শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদ শেষে অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে ফেরার পথে ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। হামলার ঘটনার পরে সাংবাদিকদর সামনে এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই প্রথম ছাত্রীরা আমার কাছে এমন অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইএইচটি অনিদিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ছাত্রীরা জানান, রাজশাহী ইন্সটিটিউট অব হেল্থ টেকনোলজি ছাত্রীদের ছাত্রলীগ কর্মীদ্বারা উত্যক্ত করা হতো। গত ৩রা ডিসেম্বর বরিশাল আইএইচটির দুজন অসুস্থ ছাত্রীর সাহায্যার্থে নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট বিভিন্ন কর্মীসূচি পালনের কথা ছিলো। সেখানে যেতে বাধা দিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের মূল গেটে তালা ঝুলিলে দেয়। এ সময় হোস্টেলের ছাত্রীরা বাইরে আসতে চাইলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। এ ঘটনায় পরে আইএইচটি ছাত্রলীগের নেতারা ছাত্রীদের ডেকে পাঠায়। অসুস্থতার কারণে কয়েকজন ছাত্রী আসতে পরেনি। এতে ছাত্রলীগ নেতা তুহিন, মুন্নাফ, তুহিন, কাইউম ও নাইম অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। ছাত্রলীগের কয়েকজন  নেতাকর্মীরা ছাত্রীদের হুমকি দিয়ে বলে, ভেতরে যেতে হলে, সবাইকে গণধর্ষণ করবো। হোস্টেলের ছাত্রীরা বাইরে আসলে নানাভাবে লাঞ্চিত করবে বলেও হুমকি দেয়।
ছাত্রীরা আরো অভিযোগ করেন, গত কয়েক দিন আগে এক ছাত্রীর ছোট ভাই তার বোনের সঙ্গে  দেখা করতে আসে। এসময় তাকেও নানাভাবে হুমকি দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদুল ইসলাম জাহিদই উল্টো অধ্যক্ষের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। ওই ছাত্রীর নিকট ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন জাহিদ।এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান হাফিজ মানবজমিনকে জানান, আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ গিয়ে তাদের প্রতিহত করে। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা ক্যাম্পাস ছেড়ে পালিয়ে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

Share Now
February 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728