সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নেতারা দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রিক ভাস্কর্য অপসারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। আদালত অঙ্গন থেকে ভাস্কর্য সরাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরাও একমত।

ভাস্কর্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকাটাইমসকে এ তথ্য জানান আইনজীবীরা।

আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু ঢাকাটাইমসকে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের অধিকাংশ আইনজীবীই এই ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে। ভাস্কর্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দল-মতনির্বিশেষে সবাই সমর্থন করেছেন। আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আনন্দিত। আশা করি প্রধান বিচারপতি ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলবেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন বলেন, এই ভাস্কর্য আমাদের বাংলাদেশের ভাবধারার সঙ্গে যায় না। এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের অনেক সাধারণ আইনজীবীও আমার কাছে ভাস্কর্য অপসারণের দাবি নিয়ে এসেছেন। আমি বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে যাব।

সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের সামনে শাপলা ফোয়ারার মধ্যে স্থাপিত ভাস্কর্য অপসারণের দাবি করে আসছে হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামি দলগুলো। ক্ষমতাসীন দলের আওয়ামী ওলামা লীগও এর বিরোধিতা করে সভা, সমাবেশ ও বিবৃতি দিয়েছে। এ নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিটও দায়ের করা হয়েছে। আবার ভাস্কর্যটি রাখার পক্ষের লোকও কম নেই।

তবে ভাস্কর্যটি এত দিন আলোচনা-সমালোচনা, দাবি-দাওয়া চললেও প্রধানমন্ত্রী এ নিয়ে কিছু বলেননি। গতকাল মঙ্গলবার গণভবনে কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও এটা (ভাস্কর্য) পছন্দ করিনি। বলা হচ্ছে এটা নাকি গ্রিক মূর্তি। আমাদের এখানে গ্রিক মূর্তি আসবে কেন? আমি নিজে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটা এখানে থাকা উচিত না।’

তিনি আরো বলেন, ‘গ্রিকদের পোশাক ছিল এক রকম। এখানে আবার দেখি শাড়ি পরিয়ে দিয়েছে। এটাও হাস্যকর হয়েছে। প্রধান বিচারপতির সঙ্গে খুব শিগগিরই বসব। আপনারা ধৈর্য ধরেন, এটা নিয়ে হইচই করবেন না। আমার ওপর আপনারা এটুকু ভরসা রাখবেন। এটা নিয়ে যা যা করা দরকার আমরা তা তা করব।’

সুপ্রিম কোর্টে পবিত্রতা রক্ষায় গঠিত কমিটির মুখপাত্র আইনজীবী আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘মূর্তি অপসারণে আমরা শুরু থেকে কাজ করে আসছি। মূর্তি অপসারণ চেয়ে ইতিমধ্যে আমরা আইনজীবীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছি। সুপ্রিম কোর্ট বারের সাথেও এ বিষয়টি নিয়ে মিটিং করেছি। এ বিষয়টি নিয়ে বিশেষ একটি অধিবেশন ডাকতে আইনজীবী সমিতির নেতাদের কাছে আবেদন করেছি।’

সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনের সামনে ফোয়ারার মধ্যে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করছেন ভাস্কর মৃণাল হক।

ভাস্কর্যটিতে দেখা যায়, চোখবাঁধা একজন নারী বাম হাতে দাঁড়িপাল্লা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তার ডান হাতে তলোয়ার। তলোয়ারটি নিচের দিকে নামানো।

মৃণাল হক ঢাকাটাইমসকে বলেন, সারা বিশ্বেই এটি বিচার বিভাগের প্রতীক। তবে অন্যান্য দেশে স্থাপিত ভাস্কর‌্যটির সঙ্গে আমাদেরটির একটু পার্থক্য রয়েছে। অন্যান্য দেশে ভাস্কর্যের গায়ে স্কার্ফ পরা থাকলেও এখানে শাড়ি পরানো হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য দেশে পায়ের নিচে সাপ থাকলেও এখানে এটি বাদ দেয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার পায়েল ঢাকাটাইমসকে বলেন, এই ধরেন একটি ভাস্কর্য ইংল্যান্ডের ওল্ড বেইলি ক্রিমিনাল কোর্ট ভবনের সামনে স্থাপিত রয়েছে। এটি হলো গ্রিকদের ন্যায়বিচারের দেবি।

উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, রোমানদের কাছে এটি ন্যায়বিচারের প্রতীক। গ্রিক মিথ অনুযায়ী গ্রিক ন্যায়বিচারের দেবী থেমেসিসের অনুরূপ। দেবীর চোখ বাঁধা, যার অর্থ হলো- একজন বিচারক পক্ষপাতিত্ব করবেন না। তার কাছে সবাই সমান। দেবীর বাম হাতে দাঁড়িপাল্লা, যার অর্থ হলো- একজন বিচারক সবার মাঝে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। দেবীর ডান হাতে রয়েছে তলোয়ার। এর অর্থ হলো-অন্যায়কারীকে একজন বিচারক দণ্ড দেবেন।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031