বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সরকার বিএনপির সমাবেশ ঘিরে কোন সহিংস ঘটনা ঘটানোর আগাম সহিংসতার কথা বলছে বলে অভিযোগ করেছেন । আজ দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রোববারের বিএনপির সমাবেশস্থল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে গত কয়েকদিন ধরে অনেক কথা বলা হচ্ছে। তারা বলেছেÑ রাজপথে বিএনপিকে মোকাবিলা করবে। বিএনপি সমাবেশে সহিংসতা করবে। এই যে আগাম কথা বলা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এখানেই আমাদের সংসয়।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপির মিটিংয়ে বিএনপি কেন অস্থিরতা তৈরী করবে। সহিংসতা করবে। আমার ধারণা সরকার কোন একটা ঘটনা ঘটানোর জন্য এই ধরণের কথা বলছে। এক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্খা পুরোণের মতো করে আমাদের আগামীকালের সমাবেশ করবো। আগামীকাল সমাবেশে লোক আসার পর আপনারা মন্তব্য করবেন কতো লোগ এসেছে সমাবেশে।
এর আগে বিএনপির সমাবেশের দিন সরকার সারাদেশের গাড়ি বন্ধ করে দিয়েছিল, এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্শন করলে তিনি বলেন, সরকার তাদের স্বভাব সুলভ ভাবে অনেক কিছু করতে পারে। তারা গাড়ি বন্ধ করতে পারে, রিকশা বন্ধ করতে পারে, ট্রেন বন্ধ করতে পারে আবার লঞ্চ বন্ধ করতে পারে। তারা অনেক কিছুই করতে পারে। তারা সবকিছু করবে তারপরও আমরা সেটাকে অতিক্রম করবো। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে দাবিগুলো আছে সেগুলোকে একত্র করে মিটিংয়ে আমরা সেগুলোকে উপস্থাপন করবো। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট যেমনÑ গণফোরাম, যুক্তফ্রন্ট ও বাম জোট আগামী নির্বাচন নিয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। আগামীকাল সমাবেশে আমরা সুস্পষ্ঠভাবে আমাদের অবস্থান তুলে ধরব। কেমন লোকসমাগম হবে সেটা আগাম বলা ঠিক হবেনা। লোক আসবে সতস্ফুর্তভাবে। আমাদের অর্থ নেই যে লোক ভাড়া করে আনব। গাড়ি দেব।
তিনি বলেন, আমরা যতোই সুশৃঙ্খলভাবে সমাবেশ করি না কেন তারপরও সরকারের যে চিরাচরিত স্বভাব আছে সেই স্বভাব থেকে তারা বিরত থাকবে না। এই অনুমতি দিতে যেহেতু এতো টালবাহানা করেছে। তাহলে ফাঁকে ফাঁকে শুনেছেন না তারা রাজপথ দখল করবে, দেশ দখল করবে। সবই তো দখল করেছে। কোন কিছু দখল করতে বাকি নেই। নির্বাচন কমিশন দখল করেছে, পাবলিক সার্ভিস কমিশন দখল করেছে। আবার সংবাদপত্রও দখল করে ফেলেছে। এখন সর্বশেষ দেশ দখল করবে। দেশ দখল করবে এই কথার আড়ালে আরো কথা আছে না?
তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির সাথে নির্বাচনের কোন শর্ত নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তি নিঃশর্ত। উনি মুক্তি পাওয়ার, জামিন পাওয়ার সকল অধিকার রাখেন আইনগতভাবে। সুতরাং খালেদা জিয়ার মুক্তি তো দিতেই হবে।
গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন সেই কারণেই উনি জেলখানায়। সেই গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হলে, সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হলে তাকে অনুপস্থিত রেখে বা জেলে রেখে সম্ভব না। গয়েশ্বর বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে এদেশে নির্বাচন করা সম্ভব না, এই কথাটা সরকার বুঝতে পারছে না। তবে আশা করি তারা খুব শিগগিরই বুঝতে পারবে। এসময় তিনি বলেন, সরকার খালেদা জিয়াকে জেলে নিয়েছে। এখন আবার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জেলে নেয়ার প্ল্যান করছে। এখন আমাদের দলও রক্ষা করতে হবে। সেই সঙ্গে কর্মীসহ নেতৃত্বকেও রক্ষা করতে হবে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যা হচ্ছে সব রাজনৈতিক কারণে। রাজনৈতিক কারণেই তাদের রক্ষা করার জন্য আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করবো।
সমাবেশে কাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবিষয়ে তিনি বলেন, মিটিংটা শুধু বিএনপির। সেখানে কাকে আমন্ত্রণ জানালাম আর জানালাম না সেটা বড় কথা না। মিডিয়ার যারা আছেন তারা আমাদের পক্ষে লেখেন আর বিপক্ষে লেখেন আপনারাও সবাই আমন্ত্রিত।
