নিমার আলী মা ও মেয়ের সঙ্গে একাধিকবার মিলনের দৃশ্য নিজের মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় বন্দি করে । আর এসব মিলনের দৃশ্য শেয়ার করে বন্ধুদের মোবাইলে-মোবাইলে। পরে ওই ভিডিও ক্লিপগুলো ভাইরাল হয়ে যায়। ছেড়েও দেয়া হয় ইন্টারনেটে। আলোচিত এ ঘটনাটি ঘটেছে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায়। একই পুরুষের সঙ্গে মা ও মেয়ের যৌন মিলনের দৃশ্যাবলির ফুটেজ মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে গোটা উপজেলায়। এ নিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। ভিডিওটি দেখেন মহিলার স্বামীও। তিনি রাগে-ক্ষোভে স্ত্রীকে দেন তালাকও। এদিকে জৈন্তাপুরে আলোড়ন তোলা এ ভিডিওটি জৈন্তাপুর থানার ওসি সফিউল কবিরের কাছে পৌঁছলে তিনি স্ব-উদ্যোগেই এর তদন্ত শুরু করেন। আর সত্যতা পাওয়ার পর গত বুধবার রাতে নরপশু নিমার আহমদকে গ্রেপ্তার করেছেন। গ্রেপ্তারের পর নিমারের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ধারণ করা ভিডিওর দুটি মেমোরি কার্ডও উদ্ধার করা হয়েছে। নিমার আহমদ গতকাল সন্ধ্যায় সিলেটের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে দায় স্বীকার করেছে। সব সৌজন্যতাকে হার মানালো জৈন্তাপুরের রাজমিস্ত্রি নিমার আলী। বাড়ি উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের ডেমা গ্রামে। বয়স প্রায় ২৮ বছর। গ্রেপ্তারের পর নিমার আলী পুলিশের কাছে জানিয়েছে, প্রায় দুই বছর ধরে সে এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিল। ওই নারীর স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিমার আলী তাদের বাড়িতে যেত এবং স্ত্রীর সঙ্গে একান্তভাবে মিলিত হতো। এ সময় নিমার আলী নিজের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যৌন মিলনের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে। এসব ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নিমার আলী ঘরের কোনো এক স্থানে মোবাইলের ভিডিও অপশন চালু করে এরপর যৌন মিলনে লিপ্ত হতো। পুরো দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হওয়ার পর সে মোবাইল বন্ধ করতো। বিকৃত মানসিকতার যুবক নিমার আলী পরকীয়া সম্পর্কেই ক্ষান্ত হয়নি। ঘরে ওই নারীর মেয়েও রয়েছে। মায়ের সঙ্গে প্রায় এক বছর যৌন মিলনের কারবার চলার পর নিমারের নজর পড়ে মেয়ের ওপর। এরপর সে মায়ের কাছেই বলে তার মেয়েকে বিয়ে করবে। আর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েই সে ষোড়শী ওই মেয়ের সঙ্গেও যৌন মিলন শুরু করে। প্রায় এক বছর ধরে মেয়ের সঙ্গে অবাধে যৌন মিলন করছে। আর এসব মিলনের দৃশ্য নিজের মোবাইল ফোনে ধরে রাখছে। মা ও মেয়ের সঙ্গে যৌন মিলনের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি রেখে নিমার প্রায় সময় ব্ল্যাকমেইল করেও। এতে নিমারের কাছে পুরোপুরি কাবু হয়ে পড়ে মা ও মেয়ে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে কিছুদিন পূর্বে মা তার মেয়েকে বিয়ে করার জন্য নিমারের কাছে প্রস্তাব দেন। কিন্তু নিমার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং বিয়ে করবে না বলে জানায়। এ নিয়ে মা ও নিমারের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। আর ওই দ্বন্দ্বের জের ধরে মা ও মেয়েকে শায়েস্তা করতে নিমার আলী ভিডিও ফুটেজ বন্ধুদের মোবাইল ফোনে শেয়ার করে। এক সপ্তাহ আগে যখন মোবাইলে মোবাইলে ভিডিওটি ছাড়া হয় তখন গোটা উপজেলায়ই এ নিয়ে হুলস্থূল পড়ে যায়। পরে ভিডিওটি হোয়াটআপ, ভাইভার, ইমোর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেট দুনিয়ায়। ভিডিও মাত্র দুই দিনেই জৈন্তাপুরের অধিকাংশ মানুষের কাছে ভাইরাল হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ওসি বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক তদন্ত শুরু করেন এবং ঘটনার সত্যতা পান। এদিকে পুলিশ তদন্ত শুরু করার পরপরই গাঢাকা দেয় নিমার আলী। পুলিশ গত সোমবার থেকে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। কিন্তু কোথাও নিমারকে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে বুধবার মধ্যরাতে উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের ডেমা গ্রাম থেকে নিমারকে আটক করে পুলিশ। নিমারকে আটকের পর তার কথামতো পুলিশ তার মোবাইল ফোন ও দুটি মেমোরি কার্ড উদ্ধার করেন। আর গ্রেপ্তার হওয়ার পর নিমারও পুলিশের কাছে তার দোষ স্বীকার করেছে। এদিকে মোবাইল ও ইন্টারেনেটে ছড়িয়ে পড়া পর্নো ভিডিও ফুটেজটি মোবাইল ও ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলতে পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নতুবা পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন ওসি।