অভিযোগ পাওয়া গেছে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষ সুলতান বাহিনী প্রকাশ্যে নাটোরের সিংড়ায় ছয় কৃষকের বাড়িঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালিয়েছে বলে ।
বুধবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার রামানন্দ খাজুরা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সরজমিনে দেখা গেছে, আতঙ্কে ওই ছয় কৃষক পরিবারে পুরুষ শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, সিংড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল রামানন্দ খাজুরা গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সকালে আ’লীগের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ ওরফে বাবা সুলতানের ছোট ভাই ফেরদৌস, এনামুল ও রকিবের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ আনোয়ার হোসেন ও শহিদুল ইসলামসহ ছয় কৃষকের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ওই ছয় কৃষকের বাড়িঘর ভাঙচুর চালায় সুলতান বাহিনী ও তার লোকজন। পুড়িয়ে দেয়া হয় একটি মোটরসাইকেল।
কৃষক আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, সন্ত্রাসীরা গহনা ও গরু-বাছুর লুট করে নিয়ে গেছে। আর বাকি জিনিসপত্র সবই ভেঙে ফেলেছে। বাড়ির পুরুষদের গ্রামে আসা নিষেধ করে দিয়েছে।
অপর কৃষক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নাছিমা বেগম বলেন, সুলতান বাহিনীর ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খোলে না। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
অভিযুক্ত ফেরদৌস মোবাইল ফোনে বলেন, তিনি বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত নন। আর তিনি সকাল থেকেই বাড়িতে রয়েছেন। অপর অভিযুক্ত এনামূল হকের মোবাইলে বারবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে আনোয়ার হোসেন ও প্রতিপক্ষ ফেরদৌসের লোকজনের মধ্যে মঙ্গলবার বিকালে মারপিটের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের মিন্টু ও আনোয়ার হোসেন আহত হয়। আর এরই জের হিসেবে বুধবার প্রতিপক্ষ বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করেছে। বিষয়টি নিয়ে তিনি উভয় পক্ষ শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন।
সিংড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নেয়ামুল আলম জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোন মামলা বা কাউকে আটক করা যায়নি।
