ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন । তিনি বলেছেন, যেকোনো মূল্যে আনোয়ারা থেকে ইয়াবা নির্মূল করুন, ইয়াবার দায় আমি কখনো নেব না। সর্বনাশা এই ইয়াবা ব্যবসায় যারা জড়িত, সে যদি জনপ্রতিনিধি হয়, বড় কোনো নেতা হয়, অন্য যেকোনো পেশায়, যত বড় শক্তিশালী লোক হোক, তাকে আইনের আওতায় আনুন। সেই সমস্ত অপরাধীদের আমার এলাকা থেকে বিতাড়িত করুন।
আনোয়ারা উপজেলা পরিষদের আইন–শৃংখলা কমিটির সভা গতকাল শুক্রবার দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা পুলিশ, কোস্টগার্ড ও অন্যান্য আইন–শৃংখলার বাহিনীতে নিয়োজিত আছেন, আপনাদের প্রতি সম্মান রেখে বলছি, প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখবেন। আমি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করলাম। আপনারা নির্ভয়ে কাজ করুন। এদের আইনের আওতায় আনুন। সব ধরনের সহযোগিতা আমি করে যাব। কোনো অবস্থাতেই এদের ছাড় দেয়া যাবে না। যেকোনো মহলের বিরুদ্ধে এই ব্যবসার সম্পৃৃক্ততার অভিযোগ উঠলে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। এলাকার আইন–শৃংখলা উন্নতি নিয়ে নজরদারি আরো বাড়াতে হবে। গরু চুরি, ডাকাতি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। এতে সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার গৌতম বাড়ৈ। বক্তব্য দেন আনোয়ারা উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী, এএসপি (সার্কেল) মফিজ উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (আনোয়ারা) দুলাল মাহমুদ, কোস্টগার্ডের পেটি অফিসার কামরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মৃণাল কান্তি ধর, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ মান্নান চৌধুরী, চেয়ারম্যান মো. সোলাইমান, এম এ কাইয়ুম শাহ, জানে আলম, শাহদাত হোসেন, ইয়াছিন হিরু, হাসনাইন জলিল চৌধুরী শাকিল, অসীম কুমার দেব, মামুনুর রশিদ চৌধুরী আশরাফ ও নাজিম উদ্দিন, সাংবাদিক এম নুরুল ইসলাম প্রমুখ।
আইন–শৃংখলা সভার পর উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপজেলা সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা নিয়ে আনোয়ারাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য বড় বড় মেগা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজে অনেক দূর এগিয়ে গেছি। এ কাজে সকলের সহযোগিতা চাই। উপজেলা পরিষদের অধীনে যে সমস্ত উন্নয়ন কাজ পরিচালিত হচ্ছে, সেইসব কাজ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় এনে কাজের মান শত ভাগ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়া পরিষদের সকল কাজে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইন–শৃংখলা বাহিনী ও জনগণের সমন্বয় চান তিনি। বাস্তবায়নাধীন কাজ এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রতি সপ্তাহে ফলোআপ মিটিং করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, এসব কাজে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করবেন।
সভায় চেয়ারম্যানরা এলজিইডির পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কাজের স্বচ্চতা ও গতি বাড়ানোর নির্দেশনা দেন। তাছাড়া কোনো বিভাগ বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে, তদন্তে প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী চাতরী চৌমুহনী বাজারের যানজট নিরসনে গৃহীত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন।
সভায় সংশ্লিষ্টরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সহকারী সচিব রিদোয়ানুল করিম চৌধুরী সায়েম, ব্যক্তিগত সহকারী ইমরান হোসেন বাবু, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মরিয়ম বেগম প্রমুখ।
