জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক দিনাজপুরে ধর্ষণের শিকার শিশুর কথা উল্লেখ করে বলেন, শিশুটিকে অমানবিক ও নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আসামি ধরা পড়েছে। তবে ধরা পড়লেই তো হবে না, দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে সাক্ষীরা ম্যানেজ হয়ে গেলে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ থাকবে না।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে কাজী রিয়াজুল হক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে দিনাজপুরের পাঁচ বছরের শিশুসহ ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার অন্য শিশুদের দেখে বের হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এসব কথা বলেন।

পাঁচ বছরের এই শিশুকে গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। ওর প্রজনন অঙ্গ, মাথা, গলা, হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঊরুতে সিগারেটের ছ্যাঁকার ক্ষত। ১৮ অক্টোবর শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরদিন ভোরে শিশুটিকে তার বাড়ির কাছে হলুদখেতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল, পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে শিশুটি এখন ঢাকা মেডিকেলে।

রিয়াজুল হক বলেন, দিনাজপুরের ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সভ্য সমাজ কেন, অসভ্য সমাজে কোনো পশুও এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে কি না সন্দেহ।

গত শনিবার রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় নির্যাতনের শিকার আরেক শিশুর কথা উল্লেখ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, ১৪ বছরের এক শিশুকে এলাকার এক রাজনৈতিক দলের সভাপতির ভাই দুই সহযোগীসহ ডেকে নিয়ে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। এসব ঘটনায় পুলিশের উচিত কালক্ষেপণ না করে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আসামির বিচার শুরু করা। সরকার বাদী এসব মামলার আইনজীবীদের আন্তরিক হতে হবে। শুধু চার্জশিটের দুর্বলতার কারণে মামলা নষ্ট হয়ে যায়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয় না। ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার শিশুর পরিবারের পাশে এলাকার মানুষকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত : দিনাজপুরে ধর্ষণের শিকার শিশুটির জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নয় সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আজ মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা শিশুটিকে দেখেছেন। মেডিকেল বোর্ডের সদস্য হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান আশরাফ-উল হক প্রথম আলোকে বলেন, শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল। মানসিক বিপর্যয় কিছুটা কেটেছে। সে অন্যদের চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার চেষ্টা করছে। শিশুটির কাছে গেলে কান্নাকাটি করে ও ব্যথা পায় বলে সামনের সপ্তাহে আরেকবার তাকে চেতনানাশক দিয়ে অচেতন করে সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে।

অধ্যাপক আশরাফ-উল হক বলেন, শিশুটির শরীরে যৌনবাহিত (সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ডিজিজ) কোনো রোগের আক্রমণ হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করতে হবে।
ওসিসির হিসাব : ওসিসি সূত্র জানায়, গত মাসে সর্বোচ্চসংখ্যক নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশু বিভিন্ন সেবা নেওয়ার জন্য ওসিসিতে ভর্তি হয়। সংখ্যাটি গিয়ে ৮১ জনে পৌঁছেছে। অন্য সময় মাসে গড়ে ৫০ থেকে ৫৬ জনে সীমাবদ্ধ থাকে। গত মাসে ধর্ষণের শিকার শিশু ছিল ২৫ জন। এ তালিকায় আড়াই বছরের শিশুও ছিল। আজ ওসিসিতে থাকা ১১ জনের মধ্যে সাতজন শিশুই ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের শিকার।

ওসিসির সমন্বয়কারী বিলকিস বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বর্তমানে শিশুদের হাতেও দামি মোবাইল দেওয়া হচ্ছে এবং তারা ইন্টারনেট ব্যবহারেরও সুযোগ পাচ্ছে। ধর্ষণের শিকার শিশুরা বলছে, মোবাইলে তাদের খারাপ ছবি দেখাত ধর্ষক। সে ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের যথেচ্ছ ব্যবহার একটি কারণ হতে পারে। মূল বিষয় হলো, অপরাধীর বয়স যা–ই হোক, তারা অপরাধটা শিখছে কোথা থেকে, সে জায়গায় হাত দিতে হবে।’

দিনাজপুরের শিশুর মানসিক অবস্থার কথা জানতে চাইলে চিকিৎসক বিলকিস বেগম বলেন, ‘আমরা চোখে দেখেই সহ্য করতে পারছি না, আর ও তো প্রতিনিয়ত ঘটনাটা মনে করছে। এ বিপর্যয় কাটাতে সময় লাগবে।

Share Now
January 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031