ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংলাপে বসতে কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের ডাকে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে । নির্বাচন নিয়ে কোনো সংলাপ নয়- এমন অবস্থান থেকে সরে এসেছে দলটি।
সোমবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানান ওবায়দুল কাদের।
এর আগের দিন ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে চিঠি দেয় ঐক্যফ্রন্ট।
এর প্রতিক্রিয়ায় করা ‘জরুরি সংবাদ সম্মেলনে’ কাদের বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তে শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে সমগ্র দেশবাসীর জন্য প্লেজেন্ট সারপ্রাইজ দেব। যা সারাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তির সুবাতাস বয়ে দেবে।’
কবে এবং কোথায় এই সংলাপ হবে, এই বিষয়টি শিগগির নেয়া হবে বলেও জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। পরে এক প্রশ্নে বলেন, তফসিলের আগেই বসবেন তারা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গতকাল (রবিবার) জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেয়া হয়েছিল। আমাদের দলের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ তা গ্রহণ করেছিল। চিঠিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা সংলাপ করতে চেয়েছেন।’
‘আজকে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর নেত্রী আমাদের নিয়ে একটি অনির্ধারিত একটি বৈঠক করেন। উপস্থিত দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সবার মতামত জানতে চান। অনির্ধারিত এ আলোচনায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দরজা কারও জন্য বন্ধ নয়।’
আগের অবস্থান থেকে সরে সংলাপে রাজি হওয়ার বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন কাদের। বলেন, ‘কারও চাপের মুখে কিংবা নতিস্বীকার করে নয়। আমাদের পক্ষ থেকে কাউকে ডাকিনি। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সংলাপ করতে চান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে রাজি হয়েছেন।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফার অন্য দাবিগুলো মানা হবে কি না এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। আলোচনা যখন হবে, আলোচনার রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা করেন।’
আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
