বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন তুরস্কে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল করার পরিকল্পনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে তাতে ইইউকে নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ইস্যুতে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফেদেরিক মোঘারেনিকে স্তব্ধ করে দিয়েছেন। তুরস্ক মৃত্যুদণ্ড বহাল করার পরিকল্পনার বিরোধিতায় কণ্ঠ নামানোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আহ্বান জানিয়েছেন বরিস জনসন। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়েছে, সোমবার ব্রাসেলসে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। সেখানে উপস্থিত কূটনীতিকরা ভিতরকার খবর প্রকাশ করে দিয়েছেন। তারা বলেছেন, মৃত্যুদণ্ড বহাল করার পরিকল্পনায় তুরস্ককে একপেশে করে ফেলার বিষয়ে সতর্ক করেছেন জনসন। উল্লেখ্য, গত ১৫ই জুলাই তুরস্কে ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। এতে রক্ষা পায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান সরকার। এরপরই সরকারি বিভিন্ন সেবাখাত ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের লক্ষাধিক মানুষকে আটক করা হয়। এ সময় থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল করার পরিকল্পনার কথা প্রেসিডেন্ট এরদোগান জোর দিয়ে বলেন। বেশ কয়েকবার একথা বলেছেন তিনি। কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো দেশের সদস্য হতে হলে একটি দেশকে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করতে হয়। তুরস্কও তাই করেছিল। কিন্তু নতুন করে তা প্রবর্তনের পরিকল্পনায় সতর্ক করেছে ইউরোপ। তারা বলেছে, মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহাল করলে তুরস্ক সদস্যপদ হারাবে। ব্রাসেলস বৈঠকে এরই জবাব দিয়েছেন বরিস জনসন। তিনি তুরস্কের বিষয়ে এমন সিদ্ধান্তকে অবিশ্বাস্যরকম হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত একজন কূটনীতিক বলেছেন, বরিস জনসন বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু দেশ ১৯৮০র দশক ও ১৯৯০এর দশকে মৃত্যুদণ্ড বাতিল করার ক্ষেত্রে বেশ সময় নিয়েছিল। সদস্যপদ বাতিলের ক্ষেত্রে এটা স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা হতে পারে না। ওই বৈঠকে উপস্থিত পররাষ্ট্র বিষয়ক কূটনীতিক ও মন্ত্রীরা মনে করছেন বরিস জনসন এ মন্তব্য করে বোঝাতে চাইছেন যে, তুরস্কের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি পরিবর্তন হতে পারে। ওই বৈঠকে উপস্থিত বৃটিশ একটি কূটনৈতিক সূত্র বলেছেন, বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসলে এরদোগান সরকারের পক্ষ নেন নি। তিনি প্রকৃত সত্য তুলে ধরেছেন। তিনি সব পরিস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী।

Share Now
March 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031