ইরানের পার্লামেন্টের নারী সদস্য রাহবার মারা গেছেন কভিড-১৯ (করোনাভাইরাস)-এ শনিবার । করোনায় ইরানে কোনো নারী রাজনীতিকের মৃত্যুর ঘটনা এটি প্রথম।  

শনিবার ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

গত কয়েকদিন আগে ওই নারী সদস্যের করোনা শনাক্ত হয়। পরে তাকে তেহরানের মাসিহ দানেশভারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান।   

জানা যায়, রাহবার দেশটির রক্ষণশীল রাজনৈতিক দল ইসলামিক কোয়ালিশন পার্টির সদস্য ছিলেন। 

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ক্রমশই আরো বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। মনে করা হচ্ছে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ইরানেই প্রথম ব্যাপক আকারে করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর- সেখান থেকেই এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের আরো কয়েকটি দেশে।
ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারণে ভাইরাস ছড়ানোর খবর পাওয়া গেছে যে সব দেশে তার মধ্যে আছে, সৌদি আরব, ইরাক, আফগানিস্তান, বাহরাইন, লেবানন, পাকিস্তান, কুয়েত, ওমান, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইরানেই এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। সরকারি হিসেবেই মারা গেছেন একশো জনেরও বেশি।

ইরানের একটি প্রদেশে লোকজনের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে বলা হচ্ছে, এজন্যে প্রধান প্রধান সড়কে পুলিশ ও রেভ্যুলুশনারি গার্ডের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ইরানের ভেতরে প্রত্যেকটি প্রদেশেই করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এটি যাতে আরো ছড়িয়ে পড়তে না পারে এখন সেই চেষ্টাই করছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যেই সব স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, নববর্ষ নওরোজের ছুটি শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

ইরানের অফিস-আদালতে কাজের সময়ও অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে। প্রায় একই ধরনের ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে উপসাগরীয় আরো কয়েকটি আরব দেশেও।

ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তরে গিলান প্রদেশে লোকজনকে সারা দেশে ভ্রমণের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এজন্যে দেশটির প্রধান প্রধান সড়কে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। শুধুমাত্র জরুরি কাজে বিশেষ করে খাদ্যপণ্য ও জ্বালানি বহনকারী লরি ছাড়া অন্য কোন পরিবহনকে এক শহর থেকে আরেক শহরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930