ইয়েমেন যুদ্ধের জন্য বাদশা সালমান এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে দোষারোপ করায় সৌদির রাজপরিবার জ্যেষ্ঠ এক যুবরাজকে নির্বাসিত করা হতে পারে। মিডল ইস্ট আইয়ের বরাত দিয়ে রবিবার এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ওয়েবসাইটিতে যুবরাজ আহমেদ বিন আব্দুল আজিজের একজন ঘনিষ্ঠ সূত্র শুক্রবার বলেছেন, গত সপ্তাহে সৌদি বাদশার ভাই একটি অনলাইনে ভিডিও পোস্ট করেন। এই কারণে তিনি হয়তো আর দেশে ফিরতে পারবেন না।
সৌদি রাজপরিবার প্রতিষ্ঠাতাদের সন্তানদের মধ্যে যে গুটি কয়েকজন যুবরাজ বেঁচে আছেন তার মধ্যে তিনি একজন। লন্ডনে তার বাসার বাইরে ইয়েমেন যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারীরা জমায়েত হয়।
যুবরাজ এই বিষয়ে বলেন, ‘এই যুদ্ধের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা দায়ী। পুরো রাজপরিবারকে দোষারোপ করা উচিত হবে না। এই যুদ্ধের জন্য বাদশা ও তার উত্তরাধিকার দায়ী। তাদের জিজ্ঞাসা করুন।’
‘ইয়েমেন বা অন্য কোনো জায়গায় আমরা আশা করি যুদ্ধ আজই বন্ধ হোক, আগামীকাল নয়।’
ভিডিওটি ব্যাপকভাবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে এবং সৌদি রাজকীয় পরিবারে সম্ভাব্য বিরোধের জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই সৌদি প্রেস এজেন্সি যুবরাজ আহমেদকে দায়ী করে একটি বিবৃতিতে বলা হয়, তার মন্তব্যের ব্যাখ্যা ‘ভুল’ ছিল।
যুবরাজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, সৌদি বাদশা এবং যুবরাজ রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী।’
‘এই সত্যটি সৌদির নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং জনগণের জন্য প্রযোজ্য। তাই আমি অন্যভাবে কি বলেছি তার ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।’
তবে মিডল ইস্ট আই সূত্র বলেছে, যুবরাজ আজিজ তার বক্তব্যে অটল রয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘সৌদি নিউজ এজেন্সিতে যা বলা হয়েছে তা বানোয়াট। যেসব মন্তব্য তার বলে প্রকাশ করা হয়েছে তা মিথ্যা।’
ভিন্ন মত প্রকাশ সৌদিতে বিরল। যারা সৌদি বাদশার সমালোচনা করবে তাদের দীর্ঘ মেয়াদি জেল, শারীরিক শাস্তি ও প্রচুর আর্থিক জরিমানা করা হয়।
