তাকে অনায়াসে মনসুর আলি খান পতৌদি অথবা সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে তুলনা করা যায়, বিশেষ করে এই করোনা যুদ্ধে যেভাবে তিনি বাংলাকে নেতৃত্ব দিছেন দুই প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট ক্যাপ্টেন এর মতোই তিনি লিডিং ফ্রম দ্যা ফ্রন্ট নীতিতে বিশ্বাসী। তাই এই করোনার লকডাউন এ তিনি ঘূর্ণাবর্ত্যরে মতো ঘুরছেন। তিনি মমতা বন্দোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার বিকালে মমতা নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন মাস্ক বিহীন অবস্থায়। অকপট স্বীকারোক্তি করলেন, আমি অন্যায় করছি বলেই আপনারা করবেন না। রাজ্যে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন বাড়িয়ে তিনি বললেন, মনটা বড় খারাপ। প্রতিবার পয়লা বৈশাখের আগের রাতে কালীঘাটে গিয়ে মা কে দর্শন করি। এবার হবে না।
আপনাদের ঘরে বসিয়ে রেখে মাকে দেখতে যাবো কি ভাবে? সেটা কি ঠিক হয়। যথার্থ ক্যাপ্টেন এর মতো কথা. মাঠে নেমে যিনি খেলতে চান। সোনা কথা, বাপুষ্টি নেই। কদিন আগে শরীরটা একটু ম্যাজম্যাজ করছিলো। ঠান্ডাও লেগেছিলো। ডাক্তাররা কদিন বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছিলেন। মমতা কি বললেন? রাজ্যের মানুষ করোনার বিরুদ্ধে লড়ছে, আর আমি বিশ্রাম নেবো? সেদিনই চরকিপাক দিলেন পুলিশ এর রক্তদান শিবিরগুলোতে। একে যদি দমনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া না বলি কাকে বলবো? এত কাজের মধ্যেও দাদা অজিত, ভাই অমিত কার্তিক গণেশ বাবুন আর তাদের পরিজন কেমন আছে এই করোনা আবহে তার দিকে সজাগ দৃষ্টি। এমনকি ব্লক কর্মীদের নামে চেনেন মমতা। তাদেরও খোঁজ খবর নিচ্ছেন। রাজনীতিতে তাঁর প্রবল বিরোধী বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু এলেন মমতার দপ্তরে করোনা নিয়ে কথা বলতে। সবার আগে মমতা বললেন, এ কি বিমান দা, ছেঁড়া পাঞ্জাবি পরে ঘুরছেন? মাস্ক পরেন নি। ভারী অন্যায়! এঁকে কি যথার্থ অধিনায়ক বলবো না। করোনা মমতার খানাপিনার অব্যস্ত পাল্টে দিয়েছে। কুড়ি বছর পরে ভাত খাচ্ছেন তিনি। নিজেই এ কথা জানিয়ে বলেছেন, সকালে মুড়ি খেয়ে বেরোই, সারাদিন চা আর মুড়ি চানাচুর। রাতে মুড়ি ছিঁড়ে। কিন্তু করোনার জন্যে রাতে এখন ভাত খাচ্ছেন মমতা। কিন্তু রবিবার রাতে ডিমের ঝোল দিয়ে সেই মুড়ি। অনাড়ম্বর, সরল আহার বিধি, যিনি হুকুম করলে সরকারি অতিথিশালা থেকে মুরগি মটন আসতে পারে, তার খাওয়াতে বাংলার আমজনতার মেনু। এঁকে কি সফল অধিনায়ক বলা যাবে না। শনিবারের সাংবাদিক বৈঠকে এক সর্বভারতীয় চ্যানেলের এক মহিলা সাংবাদিককে প্রকাশ্যে ধমক দিয়েছিলেন। সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করার মুখে তাকে বললেন, কি রাগ কমেছে? বোঝোইতো আমাকে কতজন মানুষের লানা কাজ করতে হয়। কলকাতা কথকতার প্রথম কিস্তিতে কি একটু বেশি মমতা বন্দনা হয়ে গেল? হোক, ক্ষতি নেই. পাতৌদি সৌরভকেও তো আমরা অকুন্ঠ তারিফ করেছি নেতৃত্বের গুণের জন্যে। যতই রাজনীতি সম্পর্কে বলা হোক, ইট ইস নট ক্রিকেট। রাজনীতি কখনো কখনো ক্রিকেট পিচও হয়ে যায়।
