সরকার জনপ্রশাসন নিয়ে টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনকে ‘একপেশ’ আর ‘ঢালাও’ বলে মন্তব্য করেছে । মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেছেন, ‘টিআইবির গবেষণা আর পরিস্থিতি একরকম নয়।’

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে টিআইবির গবেষণা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সচিব এসব কথা বলেন।

আগের দিন ‘জনপ্রশাসনে শুদ্ধাচার: নীতি ও চর্চা’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে টিআইবি। সেখানে টিআইবি বলছে, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলে জনপ্রশাসন সম্পর্কিত ১১টি কৌশলের মধ্যে বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ প্রণোদনামূলক বিষয়ে অগ্রগতি দৃশ্যমান হলেও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে এখনো চর্চা শুরু হয়নি।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৌশলের চর্চা ফলপ্রসূ না হওয়ায় প্রশাসনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া প্রশাসনে রাজনীতিকরণ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পেশাগত উত্কর্ষে ব্যাপক ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে।

টিআইবি আরও বলছে, জনপ্রশাসনে পদায়ন ও পদোন্নতিতে রাজনৈতিক বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে, মেধা উপেক্ষিত হচ্ছে। এমনকি বিধিমালায় না থাকলেও পদোন্নতিতে গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘তারা যেটা ঢলাওভাবে বলেছেন, পরিস্থিতি ওরকম নয়। আমাদের কাজগুলো ওরকম নয়।’

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ নিয়ে সচিব বলেন, ‘আমরা অল্প কয়েকজন আছি। সংখ্যাটা খুবই কম, মিনিমাম নাম্বার। এটা মনে হয় এই সময়ে সবচেয়ে কম।’

উপরের পদগুলোতে বেশি পদোন্নতি হলেও নিচের পদগুলো ফাঁকা থাকার বিষয়ে এক প্রশ্নে সচিব বলেন, ‘আমাদের রিক্রুটমেন্ট সেই পরিমাণ ফিলাপ করতে পারছে না। একজন সহকারী কমিশনার পাঁচ বছরের মাথায় ইউএনও হন। মাঝখানের পদগুলো ফাঁকা থেকে যায়। এটা সমস্যা। তার যোগ্যতা হয়, তিনি ইউএনও হন, তিনি তখন ছোট পদে কাজ করবেন কেন?’

সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব প্রদান নিশ্চিত করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ টিআইবির। এ প্রসঙ্গে শফিউল আলম বলেন, ‘এটা আমরা দিয়েছি, অনেক দিন চাওয়া হয়নি। চাওয়া হলে দিতে হবে। এটা নিয়ম। এটা জনপ্রশাসন হিসাব রাখে। পাঁচ বছর পর চাইবে দিবে, এটাই নিয়ম। না চাইলে দেয়ার কথা নয়।’

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930