১১ জন চলতি বছরের এপ্রিল মাসে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলায় পাকিস্তানি মেয়েসহ ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছে । এছাড়া শিক্ষক কর্তৃক ধর্ষণচেষ্টার শিকারসহ সাতজন ছাত্রী-কিশোরী, তরুণী ও গৃহবধূ শ্রীলতাহানির শিকার হয়েছে। ওইসব ঘটনায় পৃথকভাবে মোট ৩৩ জনকে আসামি করা হলেও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং অনুসন্ধানের জন্য চারজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে গত শুক্রবার দুপুরে নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় মামলার বিবরণ থেকে জানান, গত ১৭ই এপ্রিল টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নানার বাড়ি বেড়াতে আসা চাচাতো ভাই আবুল হোসেনের বখাটে ছেলে আল আমিন এক পাকিস্তানি মেয়েকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ধর্ষক আল আমিন ও তার মা আনোয়ারাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার ও অপহৃত পাকিস্তানি কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
১লা এপ্রিল দুপুরে ভূঞাপুর উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নে বাসুদেবকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব ও শরীরের আপত্তিকর স্থানে হাত দেয়ার অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়।
সখীপুরে প্রেমিক সাদ্দাম হোসেনের উপস্থিতিতে প্রেমিকাকে ধর্ষণের প্রধান আসামি মো. সাদ্দামকে (২৭) গত ৫ই এপ্রিল গ্রেপ্তার করে টাঙ্গাইল র্যাব-১২-এর সদস্যরা।
১২ই এপ্রিল রাত ৯টার দিকে টাঙ্গাইল নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার ডিসি লেকে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয় ধর্ষককে আটক করে।
গোপালপুরে সিনেমায় নায়িকা বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক কলেজছাত্রীকে (১৯) আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে আকাশ ওরফে ফারুক শিকদারকে ১৬ই এপ্রিল আটক করে পুলিশ। ধর্ষক আকাশ ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী থানার মাইটকুমরা গ্রামের কাইয়ুম শিকদারের ছেলে।
১৪ই এপ্রিল নাগরপুরে প্রেমিকাকে বৈশাখী মেলায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে এক ছাত্রীকে (১৬) ধর্ষণের ঘটনায় উপজেলার বেকড়া গ্রামের মৃত আবদুর রউফের ছেলে মোবারক হোসেন (২০) ও তার সহযোগী চৌবাড়িয়া গ্রামের মৃত আবদুল মিয়ার ছেলে রাজিব মিয়া কালুকে (২২) স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে দেন।
১৬ই এপ্রিল ভূঞাপুরে মেয়েদের উত্ত্যক্ত ও শরীরে স্প্রে করার অপরাধে পাঁচ বখাটেকে অর্থদন্ড অনাদায়ে কারাদ- দেয়া হয়।
কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় তৃতীয় শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী ১২ই এপ্রিল ধর্ষণের শিকার হয়। মেয়েটির বাবা মামলা করার পরপরই অভিযুক্ত আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সখীপুরে স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে (২১) অপহরণ করে চারদিন আটকে রেখে দুই সন্তানের জনক মুখলেছউদ্দিনের (৩৫) বিরুদ্ধে বন্ধুদের নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণের মামলা করা হয়। একই উপজেলায় ১৭ই এপ্রিল মিজানুর রহমান নামে এক শিক্ষক অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিলে তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ধনবাড়ীতে ২৬শে এপ্রিল দুপুরে জামালপুর সদরের রশিদপুর শেখপাড়া গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে মাদকাসক্ত ওয়াসিম (২২) ধনবাড়ী পৌরসভার বণিচন্দবাড়ী গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘরে একা পেয়ে ঘুমন্ত এক শিশুকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওয়াসিমকে গ্রেপ্তার করে।
টাঙ্গাইল সরকারি সা’দত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে রতন মিয়া (৩৬) নামে এক যুবককে ২৭ শে এপ্রিল গণধোলাই দেয় এলাকাবাসী। ৩০শে এপ্রিল বিকেলে ছয় বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণ করে চাচাতো ভাই সাগর চন্দ্র কোচ। পরদিন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বলেন, ধর্ষণরোধে সামাজিক আন্দোলন ও পরিবারের সচেতনতা বৃদ্ধি করলে ধর্ষণ বন্ধ হবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ষণ সামাজিক ব্যাধিতে রূপ ধারণ করেছে। সমাজের পাশাপাশি পরিবারের শাসনব্যবস্থা ভালো হলেই এসব থেকে বের হয়ে আসা সম্ভব।
